দলের ভিত গড়েছেন, আবার ভেঙেছেনও! মমতার আস্থাভাজনের অজানা গল্প
পশ্চিমবঙ্গ তথা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বর্ণময় ব্যক্তিত্ব মুকুল রায় প্রয়াত হয়েছেন। ১৯৫৪ সালে কাঁচরাপাড়ায় জন্ম নেওয়া এই নেতা একদা তৃণমূল কংগ্রেসের অঘোষিত ‘নম্বর টু’ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। অন্তরালে থেকে সংগঠন সাজানো এবং দল ভাঙানোর দক্ষতায় তাঁকে রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলা হতো। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি দেশের রেলমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাম ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু করলেও মুকুল রায়ের উত্থান তৃণমূলের হাত ধরে। ১৯৯৭ সালে দল গঠনের সময় তিনি প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০০৯ ও ২০১১-র ঐতিহাসিক জয়ে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির উত্থানে তাঁর মস্তিস্ক কাজ করেছিল বলে মনে করা হয়।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর মুকুল রায় পুনরায় তৃণমূলে ফিরে আসেন, যদিও শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত শোকের কারণে রাজনীতিতে আগের মতো সক্রিয় হতে পারেননি। শেষ জীবনে স্মৃতিভ্রংশ ও ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে তিনি অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন। ধ্রুপদী টেস্ট ক্রিকেটের ভক্ত এই নেতা রাজনীতির মাঠেও দীর্ঘ ইনিংস খেলেছেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলার রাজনৈতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

