প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায়ের প্রয়াণ, শোকস্তব্ধ বাংলার রাজনৈতিক মহল
বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায় ৭১ বছর বয়সে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। রবিবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং একসময়ের দাপুটে এই নেতার প্রয়াণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিধানসভায় তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে অধ্যক্ষ ও জনপ্রতিনিধিরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মুকুল রায় একসময় রেলমন্ত্রী এবং জাহাজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। তৃণমূলের ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হলেও পুনরায় পুরনো দলে ফিরেছিলেন।
রাজনৈতিক মহলে শোকের আবহ থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট দলীয় পতাকাতলে তাঁর শেষ বিদায় নিয়ে এক অনন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাতায়-কলমে বিজেপি বিধায়ক থাকলেও তিনি তৃণমূলের সাথে যুক্ত ছিলেন, যা নিয়ে আইনি বিতর্কও চলেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দিলীপ ঘোষ, সুজন চক্রবর্তী ও কুণাল ঘোষের মতো নেতারা তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

