আস্থার শীর্ষে থেকে ‘রঙ বদল’—তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কীভাবে অন্য শিবিরের মুখ হলেন মুকুল রায়?
বাংলার রাজনীতির অন্যতম চাণক্য ও দক্ষ সংগঠক মুকুল রায়ের জীবনাবসানে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৯৫৪ সালে কাঁচরাপাড়ায় জন্ম নেওয়া এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথমে কংগ্রেসের হাত ধরে তাঁর পথচলা শুরু হলেও পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থানে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তৃণমূলের শুরুর দিনগুলোতে মুকুল রায় ছিলেন দলের প্রধান সেনাপতি ও বিশ্বস্ত মুখ। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার গঠনে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা অনস্বীকার্য ছিল। তবে রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের মাঝে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে গেরুয়া শিবিরের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি পুনরায় নিজের পুরনো দল তৃণমূলেই ফিরে আসেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান জননেতা। তাঁর প্রয়াণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় শেষ শ্রদ্ধা জানান। রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও একজন কুশলী রণকৌশলী হিসেবে বাংলার ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তৃণমূল নেতা হিসেবেই তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরের ইতি টানলেন।

