লেটেস্ট নিউজ

একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং শুরু হলেও কাটছে না আক্ষেপ, বহু বিষয়েই মিলছে না যোগ্য প্রার্থী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া মঙ্গলবার থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হয়েছে। Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো প্রায় ৯ হাজার প্রার্থীসহ মোট সাড়ে ১২ হাজার শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও প্রথম দিনেই উঠে এল এক অস্বস্তিকর ছবি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শূন্যপদের তুলনায় যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা এতটাই কম যে, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেও বহু স্কুলে শিক্ষকের আকাল থেকেই যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শূন্যপদ বনাম প্রার্থীর অমিল এবং উদ্বেগের চিত্র

শিক্ষক সংগঠন এপিজিটিডব্লিউএ-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য ও কর্মশিক্ষার মতো বিষয়গুলিতে প্রার্থীর অভাব অত্যন্ত প্রকট। পরিসংখ্যান বলছে, অ্যাকাউন্টেন্সি বিষয়ে ১৬৪টি শূন্যপদ থাকলেও প্রার্থী রয়েছেন মাত্র ৮৭ জন। একইভাবে মিউজিকে ৩২টি পদের বিপরীতে ২০ জন এবং ফিজিক্যাল এডুকেশনে ১৬টি পদের জন্য মাত্র ১০ জন যোগ্য প্রার্থী পাওয়া গিয়েছে। কমার্সের অন্যান্য বিষয়েও ৬২২টি শূন্যপদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৩৪০। ফলে কাউন্সেলিং শেষেও কয়েক’শ পদ খালি পড়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাস্তব বর্জিত শূন্যপদ তৈরির অভিযোগ

শিক্ষকদের একাংশ দাবি করছেন, ছাত্রসংখ্যার অনুপাত না মেনে কেবল পুরনো পিপি (Prior Permission) দেখে শূন্যপদ তৈরি করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক গ্রামীণ স্কুলে কমার্সের পড়ুয়া নেই বললেই চলে, অথচ সেখানে নিয়মমাফিক শূন্যপদ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান সময়ের চাহিদাপূর্ণ বিষয় যেমন কম্পিউটার সায়েন্স বা আধুনিক কারিগরি বিষয়গুলিতে শূন্যপদ বৃদ্ধির যে প্রয়োজন ছিল, তা গুরুত্ব পায়নি। শিক্ষকদের মতে, যেসব স্কুলে শিক্ষক উদ্বৃত্ত অথচ পড়ুয়া নেই, সেই পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে নতুন করে পদ সৃষ্টি করা উচিত ছিল।

ফিজিক্যাল এডুকেশনে সংকটের নেপথ্যে জটিলতা

সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ফিজিক্যাল এডুকেশন বা শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে। নবম-দশম বা উচ্চ প্রাথমিক স্তরের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার নম্বর বণ্টন নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যোগ্য প্রার্থীর তালিকায় টান পড়েছে। ইন্টারভিউ এবং ভেরিফিকেশনে অনেকের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে নতুন এই বিষয়টি চালুর ক্ষেত্রে রাজ্যজুড়ে যে উৎসাহ ছিল, শিক্ষক স্বল্পতায় তা বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর নিয়োগের দরজা খুললেও যোগ্য প্রার্থীর আকাল এবং প্রশাসনিক দূরদর্শিতার অভাবে অনেক স্কুলই শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *