ঘুমানোর সময় মুখ থেকে লালা পড়া কি কোনো বড় রোগের লক্ষণ? জেনে নিন কারণ ও মুক্তির অব্যর্থ ঘরোয়া উপায় – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সকালে ঘুম থেকে উঠে কি দেখেন বালিশ ভিজে একসার হয়ে আছে? অনেকের ক্ষেত্রেই ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে লালা পড়ার সমস্যা দেখা যায়। বিষয়টিকে আমরা অনেকেই সাধারণ বা মজার ছলে উড়িয়ে দিই, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘সিয়ালোরিয়া’ (Sialorrhea) বলা হয়। এটি যেমন সাধারণ কারণে হতে পারে, তেমনই শরীরের ভেতরে দানা বাঁধা কোনো বড় সমস্যার আগাম সংকেতও হতে পারে। ডেইলিহান্টের পাঠকদের জন্য আজ এই সমস্যার নেপথ্যে থাকা আসল কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
কেন হয় এই সমস্যা?
দিনের বেলা আমরা জেগে থাকাকালীন মুখগহ্বরে তৈরি হওয়া লালা অনবরত গিলে ফেলি। কিন্তু গভীর ঘুমের সময় আমাদের শরীরের পেশিগুলো শিথিল হয়ে যায়। বিশেষ করে যারা মুখ হাঁ করে ঘুমান বা যাদের ঢোক গেলার প্রক্রিয়াটি ঘুমের মধ্যে ঠিকমতো কাজ করে না, তাদের ক্ষেত্রেই লালা বাইরে বেরিয়ে আসে। এছাড়া লালা গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লালা ক্ষরণ হওয়াও এই সমস্যার অন্যতম কারণ।
যে গোপন রোগগুলোর সংকেত হতে পারে এটি
চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের মধ্যে অত্যধিক লালা পড়া নিচের সমস্যাগুলোর লক্ষণ হতে পারে:
- সাইনাস ও শ্বাসকষ্ট: যদি আপনার নাক বন্ধ থাকে বা সাইনাসের সমস্যা থাকে, তবে ঘুমের সময় নাক দিয়ে শ্বাস নিতে না পেরে আপনি মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এর ফলে লালা বাইরে বেরিয়ে আসে।
- অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক: পেটে অতিরিক্ত গ্যাস বা অম্বল হলে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে চলে আসে, যা লালা গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে তোলে। ফলে লালা নিঃসরণ বেড়ে যায়।
- টনসিলের সমস্যা: টনসিল ফুলে গেলে বা গলার ভেতরের নালী সরু হয়ে গেলে ঢোক গিলতে কষ্ট হয়, যা লালা জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- অ্যালার্জি ও ইনফেকশন: কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা মুখের ভেতর কোনো সংক্রমণের কারণেও এমনটা হতে পারে।
- স্নায়বিক জটিলতা: পার্কিনসন বা অন্য কোনো নিউরোলজিক্যাল সমস্যা থাকলে লালা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়।
প্রতিকারের সহজ ঘরোয়া কৌশল
সামান্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলেই এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব:
- শোয়ার ভঙ্গি পরিবর্তন: যারা সাধারণত পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে ঘুমান, তাদের লালা পড়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই চিৎ হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন, এতে লালা গলার দিকে চলে যায়।
- তুলসী পাতার গুণ: প্রতিদিন অন্তত দু-তিনবার তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে লালা পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। এটি মুখগহ্বরের সংক্রমণ রোধেও কার্যকর।
- দারুচিনি চা: এক টুকরো দারুচিনি ফুটিয়ে সেই জল চায়ের মতো পান করুন। স্বাদের জন্য সামান্য মধু মেশাতে পারেন। এটি অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে।
- পর্যাপ্ত জল পান: শরীর ডিহাইড্রেটেড থাকলে লালা ঘন হয়ে যায়। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন যাতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং লালা গ্রন্থি স্বাভাবিক কাজ করে।
- রাতে হালকা খাবার: ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলুন এবং চেষ্টা করুন হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেতে। এতে বদহজমের ঝুঁকি কমে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি দেখেন লালা পড়ার সাথে সাথে আপনার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, প্রচণ্ড নাক ডাকার সমস্যা বাড়ছে কিংবা কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে পরীক্ষা করালে কোনো বড় শারীরিক জটিলতা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

