নজিরবিহীন পদক্ষেপ কলকাতা হাইকোর্টের! সমস্ত জুডিশিয়াল অফিসারের ছুটি বাতিল করে জারি হলো কড়া নির্দেশিকা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশের পর এক অভাবনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে কার্যত বিরল এক নির্দেশিকা জারি করে সিভিল জজ থেকে শুরু করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট— সব স্তরের বিচারকদের সমস্ত ধরনের ছুটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়, যা নবান্ন থেকে শুরু করে বিচার বিভাগীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
কেন এই জরুরি সিদ্ধান্ত?
গত শুক্রবার রাজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ওপর। সেই নির্দেশের রেশ ধরেই গত শনিবার প্রধান বিচারপতির পৌরহিত্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক, মুখ্যসচিব এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল। সেই বৈঠকের নীল নকশা অনুযায়ীই এই গণ-ছুটি বাতিলের পথে হাঁটল আদালত।
নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে
হাইকোর্টের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকেই পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনও বিচারক কোনও প্রকার ছুটি নিতে পারবেন না। এই কড়াকড়ি শুধুমাত্র নিয়মিত বিচারকদের জন্যই নয়, বরং যাঁরা বর্তমানে ডেপুটেশনে রয়েছেন তাঁদের ওপরও সমানভাবে কার্যকর হবে। এমনকি কর্মস্থল বা স্টেশন লিভ নেওয়ার ক্ষেত্রেও জারি করা হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। একমাত্র বিশেষ জরুরি চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতি ছাড়া কোনও আবেদনই গ্রাহ্য করা হবে না।
অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার চরমপত্র
যাঁরা এই মুহূর্তে ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরের মধ্যে তাঁদের প্রত্যেককে স্ব-স্ব আদালত বা দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। আগে থেকে অনুমোদিত ব্যক্তিগত বা অন্য কোনও কারণে নেওয়া ছুটিও এই মুহূর্তে কার্যকর থাকছে না। শুধুমাত্র গুরুতর অসুস্থতার প্রমাণ সাপেক্ষে বিশেষ অনুমতি মিলতে পারে।
থমকে গেল প্রশিক্ষণ ও সেমিনার
শুধু ছুটি বাতিলই নয়, বিচারকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতেও কাঁচি চালিয়েছে হাইকোর্ট। বর্তমানে যে সমস্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছিল, তার মধ্যে শুধুমাত্র প্রবেশনারি অফিসারদের প্রশিক্ষণ বাদে বাকি সব স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির যাবতীয় কর্মসূচি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাজ্যের বাইরে কোনও সেমিনার বা কর্মশালায় যোগ দেওয়ার জন্য আগে দেওয়া অনুমতিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশে রাজ্যে বিচার প্রক্রিয়ার এক বিশেষ পর্যায় সম্পন্ন করতেই এই যুদ্ধকালীন তৎপরতা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

