রাস্তার গর্ত হবে না মরণফাঁদ, গাফিলতি নিয়ে ঠিকাদারদের চরম শিক্ষা দিল দিল্লি হাইকোর্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: জনবহুল রাস্তার মাঝখানে ২০ ফুট গভীর গর্ত, অথচ নেই কোনো সতর্কবার্তা বা ব্যারিকেড। ঠিকাদারদের এই চরম উদাসীনতায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক যুবক। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অভিযুক্ত ঠিকাদারদের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মা সাফ জানিয়েছেন, সরকারি রাস্তাকে কোনোভাবেই ‘মরণফাঁদ’ হতে দেওয়া যায় না।
জনগণের জীবন কি ভগবানের ভরসায়?
দিল্লির জনকপুরী এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার শুনানিতে আদালত অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, ব্যস্ত রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি করার সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কি কেবল ‘ভগবানের ভরসায়’ ছেড়ে দেওয়া হবে? আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনায় নমনীয়তা দেখালে সমাজে ভুল বার্তা যাবে এবং মানুষের প্রাণহানিকে স্রেফ ঠিকাদারি কাজের একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা হবে।
দায় এড়াতে পারবেন না মূল ঠিকাদার
আদালতে অভিযুক্ত ঠিকাদাররা দাবি করেছিলেন যে, ঘটনার সময় তাঁরা উপস্থিত ছিলেন না এবং তাঁদের কো ম্পা নি আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাইকোর্ট এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দেয়। আদালত জানায়, কাজ অন্য কাউকে বুঝিয়ে দিলেই মূল ঠিকাদারের দায় শেষ হয়ে যায় না। আর্থিক সংকট কোনোভাবেই অপরাধমূলক দায়বদ্ধতা থেকে বাঁচার ঢাল হতে পারে না।
সাহায্যের বদলে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০ ফুট গভীর গর্তে যুবকটি পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে উদ্ধারের কোনো চেষ্টাই করেনি অভিযুক্তরা। এমনকি পুলিশ বা জরুরি বিভাগকেও খবর দেওয়া হয়নি। বিচারপতি বলেন, নথিপত্র অনুযায়ী অভিযুক্তরা আহত যুবককে বাঁচানোর বদলে নিজেদের আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল।
জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং নিয়ম ভাঙার কঠোর পরিণাম বোঝাতে পুলিশি এফআইআরের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের সমস্ত জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

