৩৫ হাজার টাকার বদলে এখন মিলবে কোটি কোটি টাকা! ১০০ বছর আগের ঋণ ফেরত পেতে লড়ছে মধ্যপ্রদেশের পরিবার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 26, 202612:49 pm
শতবর্ষ আগে ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ঋণের টাকা কি আজও ফেরত পাওয়া সম্ভব? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে সামনে এসেছে মধ্যপ্রদেশের সেহোরের প্রভাবশালী রুথিয়া পরিবার। ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের টালমাটাল পরিস্থিতির সময় ব্রিটিশ প্রশাসনকে ৩৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন এই পরিবারের পূর্বপুরুষ শেঠ জুম্মালাল রুথিয়া। সেই বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য এবার কোমর বেঁধে নামছে তাঁর উত্তরসূরিরা।
ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা সেই গোপন ঋণ
শেঠ জুম্মালাল রুথিয়া ১৯১৭ সালে তৎকালীন ভোপাল প্রিন্সলি স্টেটের প্রশাসনিক কাজ মসৃণ করতে ব্রিটিশ সরকারকে এই বিপুল অর্থ সাহায্য করেছিলেন। ১৯৩৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় এই ঋণের কথা ধামাচাপা পড়ে ছিল। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যরা পুরনো নথিপত্র এবং উইল ঘেঁটে এই ঐতিহাসিক ঋণের প্রমাণ খুঁজে পান। বংশধর বিবেক রুথিয়ার দাবি, সেই সময়ের ৩৫ হাজার টাকার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
কোটি টাকার পাওনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
বিবেক রুথিয়া জানান, সে আমলের সোনার দামের সাথে বর্তমান মূল্যের তুলনা করলে ঋণের পরিমাণ আকাশছোঁয়া। সার্বভৌম ঋণের (Sovereign Debt) নীতি অনুযায়ী, দেশ বা সরকার পরিবর্তন হলেও পুরনো ঋণের দায়বদ্ধতা শেষ হয়ে যায় না। সেই আইনি ভিত্তিকেই অস্ত্র করতে চাইছে এই ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবার। সেহোর, ইন্দোর ও ভোপাল জুড়ে হোটেল ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যুক্ত এই পরিবারটি এখন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দীর্ঘ ১০০ বছর পর এই পাওনা আদায়ের মামলাটি এখন ভারত ও ব্রিটেনের আইনি মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নথিপত্র যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে এটি ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বিরল একটি আইনি জয় হতে পারে।

