এনসিইআরটি পাঠ্যবই বিতর্কে চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট, শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাতেই চিঁড়ে ভিজবে না সাফ জানালেন প্রধান বিচারপতি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 26, 202612:31 pm
নয়াদিল্লি
অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগে দুর্নীতি’ সংক্রান্ত অধ্যায় নিয়ে বেনজির কড়া অবস্থান নিল Supreme \titleonly কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে এই অপরাধ থেকে পার পাওয়া যাবে না। এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি।
আদলতে যা ঘটল
শুনানি চলাকালীন সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং এর জন্য কর্তৃপক্ষ অনুতপ্ত। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি। তিনি মন্তব্য করেন, এটি কোনো সাধারণ মুদ্রণ প্রমাদ বা সাধারণ ভুল নয়। বরং এটি একটি “সুপরিকল্পিত এবং সুচিন্তিত পদক্ষেপ” বলে মনে হচ্ছে। তাঁর কথায়, “সরাসরি বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত করা হয়েছে এবং এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।”
কড়া পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি। সলিসিটর জেনারেল আদালতকে জানান, এই বিতর্কিত অধ্যায়টি দু’জন ব্যক্তি তৈরি করেছিলেন। ভবিষ্যতে তাঁদের ইউজিসি বা কোনও মন্ত্রকের কাজে নেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তবে এই শাস্তিতেও খুশি হয়নি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যতে কাজ না দেওয়া কি যথেষ্ট শাস্তি হতে পারে? তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “ওরা বিচারব্যবস্থার দিকে গুলি চালিয়েছে এবং আজ বিচারব্যবস্থা রক্তক্ষরণ করছে। স্রেফ দায়মুক্ত করে ছেড়ে দেওয়াটা ওদের জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে।”
বাজার থেকে বই প্রত্যাহারের নির্দেশ
আদালতে সওয়াল-জবাবের সময় প্রধান বিচারপতি জানান, ইতিমধ্যেই ওই বই বাজারে পৌঁছে গিয়েছে এবং তিনি নিজে তার একটি কপি দেখেছেন। এর উত্তরে সরকার পক্ষ জানায়, মাত্র ৩২টি কপি বাজারে গিয়েছিল যা ইতিমধ্যেই ফেরত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্পূর্ণ বইটি পুনরায় পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে উদ্বেগ
শুনানিতে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি জানান, বইটির বিতর্কিত অংশ ডিজিটাল মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, হার্ড কপির চেয়েও অনলাইনে অনেক বেশি বিতর্কিত বিষয়বস্তু মজুত রয়েছে। সলিসিটর জেনারেল জানান, সরকার দ্রুত অনলাইন থেকে এই সমস্ত তথ্য সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নেবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাঁর মতে, পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে যদি শিশু, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কাছে বার্তা যায় যে ভারতীয় বিচারব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত, তবে তা দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। আদালত পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই মামলার শুনানি চলবে বলে জানানো হয়েছে।

