লেটেস্ট নিউজ

কুরবান শা হত্যা মামলা: ‘ঘোষিত অপরাধী’ তৃণমূল নেতার ছেলের বিয়েতে হাজির, খোঁজই নেই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাঁশকুড়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা কুরবান শা হত্যাকাণ্ড কি তবে রাজনৈতিক প্রশ্রয়েই ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্ন এখন পূর্ব মেদিনীপুরের অন্দরে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে যে দুই ‘ঘোষিত অপরাধী’ বা ‘প্রোক্লেমড অফেন্ডার’ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদেরই একজনকে দেখা গেল খোদ শাসক দলের ব্লক সভাপতির ছেলের জমকালো বিয়ের আসরে। স্যুট-বুট পরে অপরাধী দিব্যি ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ বলছে, তারা নাকি হন্যে হয়ে খুঁজছে!

বিয়েবাড়িতে ‘ফেরার’ গোলাম মেহেন্দির রাজকীয় উপস্থিতি

২০২০ সালের ২ জানুয়ারি পলাতক আসামী হিসেবে যাদের নামে হুলিয়া জারি হয়েছিল, সেই গোলাম মেহেন্দি ও শীতল মান্না আজও অধরা। কিন্তু গত ৬ জানুয়ারি পিংলা ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ সবেরাতির ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায় গোলাম মেহেন্ডিকে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে তাকে বেশ খোশমেজাজেই দেখা গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার ডাকসাইটে সাংসদ, বিধায়ক এবং খোদ পুলিশ আধিকারিকরা। অথচ পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ এই দুষ্কৃতী কীভাবে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ঘুরে বেড়াল, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আদালতের কড়া অবস্থান ও পুলিশ সুপারের রিপোর্ট

খুনের মামলার আসামী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর ছবি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা সিটি সেশন কোর্ট। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে এ নিয়ে জবাবদিহি চেয়েছিল আদালত। ১৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে যে দুই পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছেন, তাতে দাবি করা হয়েছে— গোলাম মেহেন্দি ও শীতল মান্নাকে ধরার জন্য প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে। এমনকি গত ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের খোঁজে শেখ সবেরাতির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। যদিও পাঁচ বছর ধরে এই ‘চেষ্টা’র কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার নেপথ্যে কি গভীর রহস্য

নিহত কুরবান শা’র দাদা আফজল শা বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, পলাতক দুই অভিযুক্ত আসলে দীঘায় দিব্যি হোটেল লিজে নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে এবং নিয়মিত পাঁশকুড়ায় নিজেদের বাড়িতে যাতায়াত করছে। আফজল বলেন, “আমি একাধিকবার লোকেশনসহ তথ্য পুলিশকে দিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো প্রভাবশালী নেতার হাত রয়েছে।”

স্মৃতিতে ফিরছে সেই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর। পাঁশকুড়া থানার মাইসোরা বাজারে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক কার্যকরী সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি কুরবান শা-কে নৃসংশভাবে খুন করা হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনিসুর রহমানসহ আটজন দীর্ঘ জেলবাসের পর ২০২৫ সালে জামিন পেলেও শীতল মান্না ও গোলাম মেহেন্দি আজও নাগালের বাইরে। এমনকি ২০১৮ সালের একটি অপহরণের মামলায় শীতল মান্নাকে ধরতে না পারায় ঘাটাল আদালত একবার পাঁশকুড়া থানার তৎকালীন আইসি-কে ভর্ৎসনা করে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ পর্যন্ত দিয়েছিল। এত সবের পরেও অভিযুক্তদের অবাধ বিচরণ প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *