নন্দাইয়ের সাথে লিভ-ইন থেকে মর্মান্তিক পরিণতি! অন্তর্বাসে লুকানো সুইসাইড নোটই ফাঁস করল আসল রহস্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফলতা: পরকীয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন আর এক গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকায়। স্বামীর ঘর ছেড়ে নন্দাইয়ের হাত ধরে পালিয়েছিলেন সুপ্রিয়া মণ্ডল নামের ওই তরুণী। ভেবেছিলেন নতুন করে সংসার সাজাবেন, কিন্তু সেই স্বপ্নের পরিণতি যে এত দ্রুত এবং এমন বীভৎস হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সম্পর্কের জটিলতা
ফলতা থানার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর দেবীপুরের বাসিন্দা সুপ্রিয়া মণ্ডলের বিয়ে হয়েছিল দোস্তিপুরের প্রসেনজিতের সঙ্গে। তবে সেই দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। এরই মাঝে নন্দাই স্বরূপ ভান্ডারীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সুপ্রিয়া। লোকলজ্জা আর সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে একপর্যায়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে স্বরূপের সঙ্গে বেহালার একটি ভাড়াবাড়িতে লিভ-ইন শুরু করেন তিনি।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, লিভ-ইন শুরু করার কিছুদিন পর থেকেই স্বরূপ ও সুপ্রিয়ার মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। গত রবিবার রাতে সেই অশান্তি চরমে ওঠে। অভিযোগ, সেই ঝগড়ার জেরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন সুপ্রিয়া। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে স্বরূপ। পুলিশকে জানানোর বদলে সে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের ছক কষে। নিজের বাবা-মাকে ডেকে এনে সুপ্রিয়ার নিথর দেহটি মোটরবাইকে চাপিয়ে ফতেপুর বাইপাসের রামনগর পোলের কাছে একটি নির্জন জলাজমির ধারে ফেলে দিয়ে আসে।
সুইসাইড নোট ও পুলিশের তৎপরতা
গত সোমবার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করার সময় এক অভাবনীয় সূত্র পায়। মৃতার অন্তর্বাসের ভিতর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়, যেখানে মৃত্যুর জন্য সুপ্রিয়ার স্বামী ও বাবা-মাকে দায়ী করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা মনে হলেও, তদন্তকারীরা গভীর তল্লাশি চালিয়ে স্বরূপ ভান্ডারীর হদিশ পায়। জেরায় পুলিশ জানতে পারে, তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে ওই সুইসাইড নোটটি আসলে স্বরূপ নিজেই লিখেছিল।
গ্রেপ্তার ও বর্তমান পরিস্থিতি
মৃতদেহ গায়েব এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রেমিক স্বরূপ ভান্ডারীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। এই ষড়যন্ত্রে স্বরূপের বাবা-মা সরাসরি যুক্ত থাকায় তাদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পরকীয়া প্রেম আর লিভ-ইনের এই ভয়ংকর পরিণতি বর্তমানে গোটা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে।
আগামীতে এই মৃত্যু কেবলই আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনো প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে।

/pratidin/media/media_files/2026/01/21/live-in-relationship-2026-01-21-11-07-33.jpg?ssl=1)