ভোটের আগে ফের রক্তস্নাত উত্তরবঙ্গ! বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কোপ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
হলদিবাড়ি: ভোটের দামামা বাজতেই ফের অশান্তির আগুনে জ্বলছে উত্তরবঙ্গ। এবার জলপাইগুড়ি জেলার হলদিবাড়ি ব্লকে এক বিজেপি নেতার ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মেখলিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য তপন রায়কে প্রকাশ্য রাস্তায় বুকে ছুরি মেরে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
যেভাবে চলল হামলা
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তপন রায় বাজার সেরে নিজের বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। নগর সাহেবগঞ্জ লীলাহাটি গ্রামের কাছে পৌঁছাতেই আচমকা এক যুবক তাঁর পথ আটকায়। অভিযোগ, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই যুবক তপনবাবুকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ শুরু করে এবং হঠাৎই কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে তাঁর বুকে বসিয়ে দেয়। তপন রায়ের চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে হামলাকারী অন্ধকারে গা ঢাকা দেয়।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি জেলা কমিটির সদস্য অপূর্ব রায় সরাসরি একে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন এগিয়ে আসায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতেই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্তের নাম প্রভাস মণ্ডল। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক।
থানায় অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

