ফাল্গুনের শেষ প্রদোষ ব্রতে খুলবে ভাগ্যের দুয়ার! জেনে নিন নির্ঘণ্ট ও শিব আরাধনার বিশেষ নিয়ম – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ফাল্গুন মাসের সমাপন আর বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন সেজে উঠছে, ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই উপস্থিত বছরের অন্যতম মাহাত্ম্যপূর্ণ তিথি। হিন্দু ধর্মে ত্রয়োদশী তিথি বা প্রদোষ ব্রতের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ফাল্গুন মাসের শেষ প্রদোষ ব্রত ভক্তদের জন্য নিয়ে আসে এক দুর্লভ আধ্যাত্মিক সুযোগ। মহাদেব ও মাতা পার্বতীর আশীর্বাদ ধন্য এই বিশেষ দিনটি নিয়ে ভক্তমহলে উন্মাদনা তুঙ্গে।
২০২৬ সালের ফাল্গুনী প্রদোষ ব্রতের তারিখ ও সময়
পঞ্জিকা মতে, ২০২৬ সালের ফাল্গুন মাসের শেষ প্রদোষ ব্রত পালিত হবে আগামী ১ মার্চ, রবিবার। শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি শুরু হচ্ছে ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে এবং এই তিথি স্থায়ী হবে ১ মার্চ, রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিট পর্যন্ত। যেহেতু প্রদোষ ব্রতের মূল পূজা সূর্যাস্তের সময় অর্থাৎ প্রদোষ কালে সম্পন্ন করা হয়, তাই উদয়া তিথি ও সায়ংকালের গুরুত্ব মেনে ১ মার্চ রবিবারই ব্রত পালনের জন্য প্রশস্ত দিন।
কেন এই প্রদোষ ব্রত এত বিশেষ
এবারের প্রদোষ ব্রতটি রবিবারে পড়ায় একে ‘রবি প্রদোষ’ বলা হচ্ছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে রবি প্রদোষ সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু লাভের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দুর্লভ ‘শোভন যোগ’, যা এই দিনের মাহাত্ম্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ভক্তিভরে দেবাদিদেবের আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত জটিলতা ও বাধা বিপত্তি দূর হয়।
পূজা পদ্ধতি ও শাস্ত্রীয় বিধান
প্রদোষ ব্রত পালনের ক্ষেত্রে নিয়মনিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। ভক্তরা সাধারণত এদিন সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে শুদ্ধবস্ত্রে শিবলিঙ্গে জল অর্পণ করেন। সারাদিন উপবাস থেকে সূর্যাস্তের ঠিক আগে এবং সূর্যাস্তের কিছু সময় পর পর্যন্ত অর্থাৎ ‘প্রদোষ কালে’ মূল পূজা সম্পন্ন করা হয়।
- শিবলিঙ্গে অর্পণ: মহাদেবকে তুষ্ট করতে এদিন বেলপাতা, ধুতুরা ফুল, গঙ্গাজল, দুধ, ঘি, দই ও মধু দিয়ে অভিষেক করা বিধেয়।
- ভোগ নিবেদন: পূজার সময় ঋতুফল, মিষ্টি এবং পঞ্চামৃত নিবেদন করলে প্রসন্ন হন ভোলানাথ।
- আরতি ও প্রদীপ: সন্ধ্যার পূজায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে শিব ও পার্বতীর আরতি করা পরিবারের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য শুভ।
শক্তিশালী মন্ত্র যা বদলে দিতে পারে জীবন
শাস্ত্র মতে, প্রদোষ কালে ধ্যান ও জপ করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। এই বিশেষ দিনে ভক্তদের নিম্নোক্ত মন্ত্রগুলি জপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়:
১. পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র: “ওঁ নমঃ শিবায়”
২. মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র: “ওঁ ত্র্যম্বকম যজামহে সুগন্ধিম পুষ্টিবর্ধনম, উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।”
এই মন্ত্রোচ্চারণ কেবল মানসিক শান্তিই আনে না, বরং আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করতে সাহায্য করে। শিবপুরাণ অনুসারে, যারা ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করেন, মহাদেব তাদের দারিদ্র্য দূর করেন এবং অক্ষয় পুণ্য প্রদান করেন।

