লেটেস্ট নিউজ

শনিবারই প্রকাশিত হচ্ছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, কাদের ভাগ্য ঝুলে রইল বিচারকদের হাতে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘সার’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার টানটান উত্তেজনার মাঝে অবশেষে কাল, শনিবার প্রকাশিত হতে চলেছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তবে এই তালিকায় নাম থাকলেই যে সবাই ভোট দিতে পারবেন, এমনটা নয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, কয়েক লক্ষ ভোটারের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে বিচারকদের সিদ্ধান্তের ওপর।

তালিকায় নাম থাকলেও পাশে লেখা থাকছে বিশেষ তকমা

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলাশাসক ও মহকুমাশাসকের দপ্তরের পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি বুথে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। কমিশনের ওয়েবসাইট থেকেও এই তালিকা দেখা যাবে। তবে এবারের তালিকায় একটি বড় চমক থাকছে। প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৮ জন ভোটার রয়েছেন ‘ডিসপিউটেড’ বা বিতর্কিত তালিকায়। এঁদের নথিপত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে বিচারকরা এই ভোটারদের নথি স্ক্রুটিনি করছেন। চূড়ান্ত তালিকায় এঁদের নাম থাকলেও পাশে লেখা থাকবে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন। অর্থাৎ, বিচারকদের সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত এঁরা ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন না।

বাদ পড়ল ৫৮ লক্ষ নাম

কমিশন সূত্রে খবর, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। মৃত, অনুপস্থিত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত বা একাধিক জায়গায় নাম থাকার কারণে খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে খসড়া তালিকায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষের আশেপাশে। এর বাইরেও প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নথির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। যারা সঠিক প্রমাণ দিতে পেরেছেন, তাঁদের নাম থাকবে। যারা পারেননি, তাঁদের নামের পাশে সোজাসুজি ‘ডিলিটেড’ বা বাদ লেখা থাকবে।

সাপ্লিমেন্টারি লিস্টই শেষ কথা

কমিশনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এখনই সবটা পরিষ্কার হবে না। মনোনয়ম জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। বিচারকরা যাদের নথিতে সন্তুষ্ট হবেন, তাঁদের নামই কেবল সেই অতিরিক্ত তালিকায় উঠবে। আর সেই তালিকায় নাম থাকলেই মিলবে ভোটাধিকার। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এক লপ্তে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, তাই কৌশলে এই ‘বিচারাধীন’ তকমা দিয়ে নামগুলো আপাতত তালিকায় রাখা হচ্ছে।

তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

ভোটার তালিকা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িও চরমে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, “প্রথমে দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Supreme \titleonly কোর্টে গিয়ে তা আটকে দিয়েছেন। এখন কয়েক দফায় তালিকা বের করে বৈধ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।”

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার পাল্টা দাবি করেছেন, “তৃণমূল ভোটারদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশেই স্বচ্ছতার স্বার্থে বিচারকরা স্ক্রুটিনি করছেন। ভয়ের কিছু নেই, সঠিক নথিপত্র থাকলে কারও নাম বাদ যাবে না।”

আপাতত শনিবারের চূড়ান্ত তালিকার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে কয়েক কোটি সাধারণ মানুষ। কার নাম তালিকায় টিকল আর কার নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ বা ‘বিচারাধীন’ তকমা জুটল, তা নিয়েই এখন সব মহলে চর্চা তুঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *