খুইয়েছেন হাজার হাজার টাকা? আইপিও-র সেই সোনালি দিন কি তবে শেষ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
শেয়ার বাজারে পা রেখেই পকেট ভর্তি মুনাফা— বিনিয়োগকারীদের এই চেনা স্বপ্ন কি তবে ফিকে হয়ে আসছে? ২০২৬ সালের শুরুটা অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গত কয়েক বছরের চেনা ছবিটা বদলে দিয়ে এবার আইপিও-র বাজারে রীতিমতো আশঙ্কার মেঘ। তথ্য বলছে, এ বছর তালিকাভুক্ত হওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে বড় অংশই লগ্নিকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ব্রোকারেজ ফার্মগুলোর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দু’মাসে শেয়ার বাজারে পা রাখা ৩২টি সংস্থার মধ্যে অর্ধেকের বেশি স্টকের হাল তথৈবচ। অন্তত ১১টি সংস্থার শেয়ার তাদের আইপিও মূল্যের চেয়েও কম দামে লেনদেন শুরু করেছে। অর্থাৎ, লিস্টিংয়ের দিনেই লোকসানের মুখ দেখতে হয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। আরও পাঁচটি সংস্থা বাজার শুরু করেছে ঠিক আইপিও মূল্যেই, যেখানে লাভের ছিটেফোঁটাও নেই।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও আইপিও থেকে মুনাফার হার যেখানে ছিল গড়ে ১০.৬ শতাংশ, এ বছর তা আরও কমে মাত্র ৮ শতাংশে এসে ঠেকেছে। ২০১৯ সালের পর আইপিও লিস্টিংয়ে গড় মুনাফার এই হার সর্বনিম্ন। অথচ ২০২৪ সালেও চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা; সে বছর গড় মুনাফার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৯ শতাংশ।
কেন এই ভরাডুবি? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর থেকেই শেয়ার বাজারের অস্থিরতা আইপিও-র ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বড় বড় সংস্থাগুলো বাজারে এলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগের মতো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। তবে এই চরম মন্দার মধ্যেও ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। ‘ই টু ই ট্রান্সপোর্টেশন’ এবং ‘ভারত কোকিং কোল’ এর মতো হাতেগোনা কয়েকটি সংস্থা লিস্টিংয়ের দিনেই লগ্নিকারীদের প্রায় ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দিয়েছে।
কিন্তু এই মুষ্টিমেয় সাফল্য বাদ দিলে সামগ্রিক চিত্রটা বেশ হতাশাজনক। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি লগ্নিকারীরা যারা আইপিও-কে দ্রুত টাকা আয়ের সহজ পথ মনে করতেন, তাদের এখন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজারের এই টালমাটাল অবস্থায় আগামী দিনে আইপিও আবেদনের সংখ্যা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আপনি কি নতুন কোনো আইপিও-তে আবেদনের কথা ভাবছেন? তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্ধভাবে বিনিয়োগ না করে সংস্থার খতিয়ান এবং বাজারের পরিস্থিতি যাচাই করে পা বাড়ানোই এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

