হাইকোর্টের সবুজ সংকেত পেলেও পদ্ম শিবিরের পরিবর্তন যাত্রায় থাকছে একগুচ্ছ কঠিন শর্ত – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে মরিয়া বিজেপি। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে মিলল স্বস্তির খবর। ১ মার্চ থেকে রাজ্যে শুরু হতে চলা বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র অনুমতি দিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ। তবে এই অনুমতি মোটেও অবাধ নয়, মানতে হবে আদালতের বেঁধে দেওয়া একাধিক কড়া নিয়ম।
বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের ৯টি সাংগঠনিক বিভাগ থেকে এই যাত্রা বের করা হবে। অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা ও রাজনাথ সিংয়ের মতো কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতারা এই কর্মসূচির সূচনা করবেন। এর আগে পুলিশি অনুমতি না পাওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল গেরুয়া শিবির। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতেই আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে কোন পথে চলবে এই রাজনৈতিক কর্মসূচি।
আদালত প্রদত্ত প্রধান শর্তসমূহ
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিবর্তন যাত্রায় কোনোভাবেই ১০০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারবেন না। বেলা ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো:
- মিছিলের সময় কোনোভাবেই যানজট সৃষ্টি করা যাবে না এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে হবে।
- শব্দবিধির কড়া শাসন মানতে হবে এবং কোনো প্রকার উস্কানিমূলক বা কুরুচিকর মন্তব্য করা চলবে না।
- মিছিলের নিরাপত্তার খাতিরে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আগেভাগেই পুলিশকে জমা দিতে হবে।
- সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার নিতে হবে বিজেপিকে।
- কর্মসূচি শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট স্থান পরিষ্কার করার দায়িত্বও আয়োজকদের।
ব্রিগেডের লক্ষ্যে প্রস্তুতি
বিজেপির এই বিশাল কর্মসূচিতে কলকাতা বিভাগকে বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ, আগামী ১৪ মার্চ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশাল জনসভাকে সফল করাই এখন কলকাতার কর্মীদের মূল লক্ষ্য। ১ মার্চ কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি ও গড়বেতা থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে এই যাত্রার উদ্বোধন করতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মুখে হাইকোর্টের এই রায়কে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

