শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে মহাপ্রলয়! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর অধিনায়ক থেকে নির্বাচক সবার ছুটি হচ্ছে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলম্বো: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে চরম ব্যর্থতার খেসারত দিতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজার আগেই দ্বীপরাষ্ট্রে শুরু হয়ে গিয়েছে বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি। ক্রিকেট বোর্ড সূত্রের খবর, দলের এই শোচনীয় পারফরম্যান্সের জেরে অধিনায়ক দাসুন শনাকা এবং জাতীয় নির্বাচক মণ্ডলীর ওপর আছড়ে পড়তে চলেছে বড় কোপ। এমনকি কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে নারাজ কিংবদন্তি সনৎ জয়সূর্যও। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে চলেছে।
অধিনায়ক ও নির্বাচকদের আল্টিমেটাম
গ্রুপ পর্বের শুরুটা ভালো করলেও সুপার এইট পর্বে এসে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লঙ্কান ব্রিগেড। জিম্বাবুয়ের কাছে হার এবং পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে না পারায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বোর্ডের কর্তারা। জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়া মাত্রই দাসুন শনাকা এবং নির্বাচকদের স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে। যদি তারা নিজে থেকে সরে না দাঁড়ান, তবে বোর্ড কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের ছাঁটাই করবে। আপাতত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ বাকি থাকায় সরকারি ঘোষণা আটকে রাখা হয়েছে যাতে দলের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
ব্যর্থতার কাঠগড়ায় ব্যাটিং ও নেতৃত্ব
বোর্ড কর্তাদের মতে, বোলাররা মোটামুটি লড়াই করলেও ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই ডোবাল দলকে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৬৯ রান কিংবা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৪৭ রান— আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান তাড়া করতে না পারাটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (SLC)। এর পাশাপাশি ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গ এবং মাতিশা পাতিরানার চোটকেও ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ দানা বেঁধেছে অধিনায়ক শনাকাকে নিয়ে। চরিথ আশালঙ্কার অনুপস্থিতিতে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তিনি দলকে সঠিক দিশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিতর্কিত মন্তব্য ও বোর্ডের অসন্তোষ
দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শনাকার সাম্প্রতিক মন্তব্য আগুনি ঘৃতাহুতি দিয়েছে। হারের দায় সরাসরি স্বীকার না করে তিনি দেশের নেতিবাচক পরিবেশ এবং সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। শনাকার দাবি ছিল, শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেটের চারপাশজুড়ে শুধু নেতিবাচকতা থাকে, যা খেলোয়াড়দের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। তার এই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুর এবং হারের অজুহাত বোর্ড কর্তারা মোটেও ভালোভাবে নেননি। তাদের মতে, পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচনার জবাব দেওয়ার বদলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন অধিনায়ক।
বিদায় নিচ্ছেন জয়সূর্যও
অন্যদিকে, দলের এই ডামাডোলের মধ্যে কোচ হিসেবে আর থাকতে চাইছেন না মাস্টার ব্লাস্টার সনৎ জয়সূর্য। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন যে বিশ্বকাপের পর তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। সেই সিদ্ধান্তে তিনি অনড়। ফলে কোচ, অধিনায়ক এবং নির্বাচক— এই তিন স্তম্ভই একসঙ্গে বদলে যেতে চলেছে লঙ্কান ক্রিকেটে। আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে এবং দলের হারানো গৌরব ফেরাতে বোর্ড এখন আমূল পরিবর্তনের পথেই হাঁটছে।

