ভোট ও দোলের আগে রনক্ষেত্র বাংলা! চরম সতর্কবার্তা জারি করে রাতারাতি বড় পদক্ষেপ রাজ্য পুলিশের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক:
উৎসবের মরসুম এবং আসন্ন নির্বাচনের উত্তেজনার মাঝে বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা করছে প্রশাসন। দোলের আনন্দ আর ভোটের লড়াইয়ের এই সন্ধিক্ষণে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্ছিদ্র রাখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। শুক্রবার রাতে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) ও আইজিপি (আইন ও শৃঙ্খলা)-র দফতর থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে গোটা রাজ্যজুড়ে ‘হাই-অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
চরম সতর্কতায় সশস্ত্র বাহিনী
পুলিশ সদর দফতর থেকে জারি করা ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত সশস্ত্র ব্যাটালিয়নকে শুক্রবার রাত থেকেই ‘এক্সট্রিম রেডিনেস’ বা চরম সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। তালিকায় রয়েছে এসএপি (SAP), এসএসএফ (SSF), আরএএফ (RAF), ইএফআর (EFR) সহ নারায়ণী ও গোর্খা ব্যাটালিয়ন। সমস্ত কমান্ডিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কম গুরুত্বপূর্ণ ডিউটি থেকে পুলিশ কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে এনে ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারে তাঁদের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ মুভমেন্টের জন্য বাহিনীকে প্রস্তুত রাখার এই নির্দেশকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ (Most Urgent) হিসেবে গণ্য করতে বলা হয়েছে।
কেন এই আচমকা তৎপরতা?
প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দোলের ভিড় সামলানোর চ্যালেঞ্জ। এই দ্বিমুখী চাপ সামলাতেই রাজ্য পুলিশ আগেভাগে কোমর বাঁধছে। মূলত অশান্তি রুখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ।
ময়দানে নামছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও
রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও (Election Commission) নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী স্রেফ রুট মার্চের জন্য নয়, বরং ১ মার্চ থেকেই রণক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকায় নামবে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছচ্ছে বিশাল বাহিনী। সিইও-র কড়া বার্তা, “সেন্ট্রাল ফোর্স এলাকা পরিদর্শন করবে এবং কোথাও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা সরাসরি তাদের কাজে লাগাতে পারবেন।”
সব মিলিয়ে ভোট আর উৎসবের আবহে বাংলা এখন কার্যত নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত হয়েছে। পুলিশের এই ‘রেডিনেস’ নির্দেশিকা রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

