মাঝ আকাশে হাড়হিম করা লড়াই! রাশিয়ান ড্রোনকে ধাওয়া করে গুলিতে ঝাঁঝরা করল ইউক্রেনীয় বিমান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
যুদ্ধক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য রণকৌশল! আকাশপথে রাশিয়ান ড্রোন শিকার করতে এবার ‘হান্টার’ বা শিকারি বিমানে রূপ নিয়েছে ইউক্রেনের An-28 এয়ারক্রাফট। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি রুদ্ধশ্বাস ভিডিওতে দেখা গেছে, কীভাবে মাঝ আকাশে একটি রাশিয়ান ‘শাহেদ’ অ্যাটাক ড্রোনকে তাড়া করে সেটিকে ধ্বংস করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে যুদ্ধের ভয়ঙ্কর এক মুহূর্ত। ইউক্রেনের An-28 বিমানের ডোর গানার পজিশন থেকে M134 মিনিগান ব্যবহার করে নিখুঁত নিশানায় ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। বিমানের ঠিক নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া ড্রোনের অবয়বটি নজরে আসতেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন ক্রু সদস্যরা। গানার নিজের পজিশন নিয়ে ট্রিগার চাপতেই আগুনের ফুলকির মতো ট্রেসার বুলেট গিয়ে সরাসরি আঘাত করে ড্রোনের বুকে। মুহূর্তের মধ্যে ড্রোনটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি আকাশ থেকে খসে পড়ে।
সাধারণ বিমান থেকে যেভাবে হয়ে উঠল ঘাতক ‘হান্টার’
An-28 মূলত দুই ইঞ্জিনের একটি ছোট বিমান, যা ডিজাইন করেছিল আন্তোনোভ ডিজাইন ব্যুরো এবং এটি পোল্যান্ডে নির্মিত। সাধারণ যাত্রী পরিবহন বা রসদ সরবরাহের জন্য তৈরি এই হালকা বিমানটিকে এখন আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত করে যুদ্ধের ময়দানে নামিয়েছে ইউক্রেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনী এই বিমানগুলোকে বিশেষ ‘হান্টার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
রাতের অন্ধকারে আকাশপথে টহল দেওয়ার সময় এই বিমানগুলো যখনই শত্রু ড্রোনের হদিস পাচ্ছে, তখনই শুরু হচ্ছে আক্রমণ। সিক্স-ব্যারেল বিশিষ্ট শক্তিশালী M134 মিনিগান থেকে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করে রাশিয়ান ড্রোনগুলোকে মাঝ আকাশেই রুখে দেওয়া হচ্ছে। পোল্যান্ডের তৈরি এই বিমানের সামরিক সংস্করণ MC-145B SOMA-তেও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং রকেট সিস্টেম বসানোর সুবিধা রয়েছে, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন বনাম প্রথাগত বিমানের এই লড়াই এখন সমর বিশেষজ্ঞদের আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে যখন রাশিয়া ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে ইউক্রেনের পরিকাঠামো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, তখন ইউক্রেনের এই ‘ডোর গানার’ কৌশল ক্রেমলিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিল।

