এই নবজাতক কি কোনো বিস্ময়? জন্মের পরেই পরছে ৬ মাসের শিশুর জামা! ওজন দেখে চিকিৎসকদের চক্ষু চড়কগাছ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সাধারণত একটি নবজাতক শিশুর ওজন তিন থেকে সাড়ে তিন কেজির আশেপাশে হয়ে থাকে। কিন্তু আমেরিকার নিউ ইয়র্কে সম্প্রতি এক মহিলা এমন এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন, যার ওজন সাধারণ শিশুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ! কাইউগা মেডিকেল সেন্টারে জন্ম নেওয়া এই ‘বিশালকায়’ শিশুটিকে দেখে শুধু তার বাবা-মা নন, হতবাক হয়ে গেছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও।
গত ৩১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা টেরিকা এবং শনের কোল আলো করে আসে তাঁদের পুত্রসন্তান শন জুনিয়র। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ৫.৯ কিলোগ্রাম বা প্রায় ১৩ পাউন্ড। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেরিকা আগে থেকেই জানতেন যে তাঁর সন্তান আকারে কিছুটা বড় হতে পারে, কিন্তু বাস্তবের ওজন দেখে তিনি নিজেও অবাক হয়ে যান। ওই হাসপাতালের ইতিহাসে শন জুনিয়রই এখন পর্যন্ত জন্ম নেওয়া সবচেয়ে বেশি ওজনের শিশু।
চার সন্তানের জননী টেরিকা জানিয়েছেন, তাঁর এই নবজাতক পুত্র এখনই তিন থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুদের জামাকাপড় এবং ডায়াপার অনায়াসেই পরে ফেলছে। মজার ছলে তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে যেন আমি সরাসরি তিন মাসের বাচ্চার মা হয়ে গেছি।” হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন যে, শিশুটির জন্মপ্রক্রিয়া ছিল কিছুটা অস্বাভাবিক, তবে মা ও শিশু দুজনেই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি চমৎকার ছবি শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একই দিনে জন্ম নেওয়া অন্য একটি শিশু মার্গোটের পাশে শুয়ে আছে শন জুনিয়র। মার্গোটের ওজন যেখানে মাত্র ১.৮ কিলোগ্রাম, সেখানে শন জুনিয়রকে দেখে মনে হচ্ছে সে যেন বেশ কয়েক মাসের বড় কোনো শিশু।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ওজনের শিশুর রেকর্ড গড়েছিল ১৮৭৯ সালে ওহিওতে জন্ম নেওয়া এক শিশু। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, সেই নবজাতকের ওজন ছিল ৯.৯৮ কিলোগ্রাম এবং দৈর্ঘ্য ছিল ২৮ ইঞ্চি। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেই শিশুটি জন্মের মাত্র দুই ঘণ্টা পরেই প্রাণ হারিয়েছিল। সেই তুলনায় ৫.৯ কেজি ওজনের শন জুনিয়র বর্তমানে দিব্যি সুস্থ ও সবল রয়েছে।

