আকাশে নোটের বৃষ্টি নাকি মৃত্যুমিছিল? মাঝ রাস্তায় ভেঙে পড়ল কোটি কোটি টাকার নোটবাহী বিমান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
লা পাজ: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা বিমান দুর্ঘটনা। একদিকে যখন স্বজনহারাদের আর্তনাদ আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলছে, ঠিক তখনই অন্য এক অদ্ভুত ও অমানবিক দৃশ্য দেখল বিশ্ববাসী। শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বলিভিয়ার এল আল্টো শহরের ব্যস্ত হাইওয়ের ওপর ভেঙে পড়ে বায়ুসেনার একটি বিশালাকার হারকিউলিস সি-১৩০ (Hercules C-130) কার্গো বিমান। এই বিধ্বংসী দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
ভয়াবহ সেই মুহূর্ত: যেন সাক্ষাৎ যমদূত নামল রাজপথে
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সান্তা ক্রুজ থেকে কোটি কোটি টাকার নতুন নোটের একটি বড় কনসাইনমেন্ট নিয়ে লা পাজ-এর দিকে আসছিল বিমানটি। অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে যান্ত্রিক গোলযোগ অথবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে সেটি সরাসরি আছড়ে পড়ে পাশের একটি ব্যস্ত হাইওয়ের ওপর। বিমানের ধাক্কায় রাস্তায় থাকা প্রায় ১৫টি গাড়ি দুমড়েমুচড়ে আগুনের গোলায় পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে বিমান ও একাধিক যানবাহন।
লাশের স্তূপের মাঝে টাকার পাহাড়
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বিমানের ভেতর থাকা ব্যাঙ্কিং নোটের বস্তাগুলো ফেটে যায় এবং কয়েক কোটি টাকার কারেন্সি নোট রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে দগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন একদল মানুষকে দেখা যায় নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে রাস্তা থেকে টাকা কুড়োতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রণক্ষেত্রে একদল লোক নোটের বান্ডিল পকেটে ভরতে ব্যস্ত। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, ভিড় সামলাতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়।
উদ্ধারকাজ ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার পরপরই এল আল্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ৩০ জনেরও বেশি মানুষকে স্থানীয় ‘হসপিটাল ডেল নোর্ট’ সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বলিভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও বায়ুসেনার পক্ষ থেকে এই দুর্ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, অবতরণের সময় ভারসাম্য হারানোর কারণেই এই বিপর্যয়। তবে নোটবাহী বিমানের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের এমন আচরণ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

