লেটেস্ট নিউজ

চার দিনেই উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন সুনেত্রা পওয়ার! অবশেষে গোপন সত্য ফাঁস করলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র ঝোড়ো পরিস্থিতির মাঝে এবার বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস। গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভিএসআর কো ম্পা নির এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এনসিপি নেতা অজিত পওয়ার। এই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র চার দিনের মাথায় অজিত-পত্নী সুনেত্রা পওয়ারের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। কেন এত দ্রুত এই সিদ্ধান্ত? এর নেপথ্যে কি বিজেপির কোনো চাপ ছিল? এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার মুখ খুললেন ফড়নবিস।

রহস্যময় সেই শপথ ও ফড়নবিসের জবাব

সুনেত্রা পওয়ারের এই আকস্মিক শপথ গ্রহণ নিয়ে বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছিল। বিশেষ করে শরদ পওয়ার যখন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সুনেত্রার শপথের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না, তখন থেকেই বিতর্কের দানা বাঁধে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, বিজেপি হয়তো সুনেত্রাকে দ্রুত শপথ নিতে বাধ্য করেছে।

একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেবেন্দ্র ফড়নবিস এই অভিযোগ সপাটে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, সুনেত্রা পওয়ার কবে শপথ নেবেন বা কখন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁদের দলের (এনসিপি) নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল। তারিখ নির্ধারণ থেকে শুরু করে পদের দাবি—সবটাই এসেছিল তাঁদের পক্ষ থেকে। ফড়নবিস পরিষ্কার করে দেন যে, বিজেপির এতে কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা বা চাপ ছিল না। এনসিপি নেতারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে আসার পর নিয়ম মেনেই সরকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।

নেপথ্যে কী ঘটেছিল?

অজিত পওয়ারের অকাল প্রয়াণের পর দলীয় নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করতে সুনেত্রা পওয়ার ও তাঁর ছেলে জয় পওয়ার দ্রুত মুম্বইতে সরকারি বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই স্থির হয় যে, দলের রাশ শক্ত রাখতে এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে সুনেত্রা পওয়ারকেই অবিলম্বে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই বিদ্যুৎগতিতে সম্পন্ন হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতির এই ক্রান্তিকালে ফড়নবিসের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যখন শরদ পওয়ারের দূরত্ব বজায় রাখা এবং অন্যদিকে বিরোধীদের সমালোচনার ঝড়—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতার এই খোলসা কি রাজনৈতিক বিতর্ক থামাবে, নাকি নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দেবে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *