হাসিনার বিরুদ্ধে আবার মামলা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাংলাদেশের তখত হারানোর মাত্র ১০ দিনের মাথায় ফের বিপাকে পড়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার হবিগঞ্জে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে আরও একটি গুরুতর মামলা। গত ১৯ মাস আগের এক ‘কথিত’ হত্যা চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলাটি রুজু হওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক মামলার কবলে পড়া হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি ১৯ মাস আগের ঘটনায় এখন কেন মামলা, তা নিয়েও চর্চা তুঙ্গে।
কী রয়েছে এই নতুন মামলায়
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন নির্বিচারে গুলিবর্ষণের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে শুধু শেখ হাসিনাই নন, অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আওয়ামী লীগের আরও ৫৬ জন প্রভাবশালী নেতাকর্মী। এছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দেড়শ থেকে দুশো জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার নেপথ্যে কে
এই মামলাটির বাদী হলেন মাহমুদুল হাসান নামে এক যুবক, যিনি নিজেকে বিএনপির একজন সক্রিয় ছাত্রকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আন্দোলন চলাকালীন পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। ১৯ মাস আগের ঘটনার রেশ টেনে কেন এখন মামলা, সে বিষয়ে বাদীপক্ষের দাবি—এতদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে তাঁরা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড় জমছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক হত্যা ও অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। হবিগঞ্জের এই নতুন মামলাটি সেই তালিকায় নবতম সংযোজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই এইভাবে একের পর এক মামলা দায়ের হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন দেশ সংস্কারের কাজ চলছে, অন্যদিকে তখন আইনি লড়াইয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েটরা। এখন দেখার বিষয়, এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া কতদূর গড়ায় এবং শেখ হাসিনার আইনজীবীরা এই ‘বিলম্বিত’ মামলার মোকাবিলা কীভাবে করেন।

