ডানাকাটা পাখির উড়ার স্বপ্ন পূরণ করবে ছোট্ট একটি পিন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
জবলপুরের নানাঞ্জি দেশমুখ পশুচিকিৎসা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পাখিদের চিকিৎসায় এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। মাঝেমধ্যেই ঘুড়ির মাঞ্জা বা খোলা তারে আটকে পাখিদের ডানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাড় ভেঙে গেলে তাদের বেঁচে থাকা বা পুনরায় আকাশে ওড়া প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়ে। সেই আসাম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন সার্জারি বিভাগের পিজি ছাত্র ড. অনিকেত ত্যাগী।
সফল অস্ত্রোপচার এবং নতুন প্রযুক্তি
বিভাগীয় প্রধান ড. অপরা শাহীর তত্ত্বাবধানে একটি আহত তোতাপাখির ওপর এই নতুন পরীক্ষা চালানো হয়। ‘ইন্ট্রামেডুলারি পিনিং’ নামক বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে তোতাপাখির ক্ষতিগ্রস্ত ডানার হাড় একটি ধাতব পিনের সাহায্যে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে হাড়ের মজ্জার ভেতরে সূক্ষ্ম পিন প্রবেশ করিয়ে ভাঙা অংশটিকে স্থির রাখা হয়।
মাত্র ১৫ দিনেই সুস্থ তোতাপাখি
গত ২৫ নভেম্বর এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছিল। অপারেশনের পর তোতাপাখিটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সম্প্রতি এক্স-রে রিপোর্টে দেখা গেছে যে, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানেই তোতাপাখির ডানার হাড় সম্পূর্ণভাবে জুড়ে গেছে। ড. অনিকেত জানান, পাখিদের হাড় অত্যন্ত হালকা এবং গঠন নাজুক হওয়ায় এই ধরণের সার্জারি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন দিশা
জবলপুরে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে এই গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হয়। পশু চিকিৎসকদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এখন থেকে মাঞ্জায় আহত পাখিদের ডানা কেটে বাদ দিতে হবে না। বরং সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তারা পুনরায় মুক্ত আকাশে ডানা মেলার সুযোগ পাবে, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক।

