লেটেস্ট নিউজ

অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট, অল্প দৃশ্যমানতাই কি কেড়ে নিল ৫ প্রাণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বারামতি: মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করল এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। গত ২৮ জানুয়ারি বারামতি এয়ারফিল্ডে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে দুর্ঘটনার পেছনে আবহাওয়া এবং পরিকাঠামোগত গাফিলতির একাধিক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে।

দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী ছিল

রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বারামতি এয়ারফিল্ডে দৃশ্যমানতা বা ভিজিবিলিটি ছিল মাত্র ৩ কিলোমিটার, যেখানে অবতরণের জন্য ন্যূনতম ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমানতা থাকা বাধ্যতামূলক। ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার কারণে রানওয়ে দেখতে সমস্যায় পড়েছিলেন পাইলটরা। Learjet 45XR বিমানটি অবতরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয়বার চেষ্টা করতে গিয়ে রানওয়ে থেকে ৫০ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে গাছে ধাক্কা মারে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়।

তদন্তে উঠে আসা প্রধান তথ্যসমূহ

  • পরিকাঠামোর অভাব: বারামতি এয়ারফিল্ডে আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত (MET) যন্ত্রপাতির অভাব ছিল।
  • রানওয়ে গাফিলতি: রানওয়ের মার্কিং আবছা হয়ে যাওয়ায় ল্যান্ডিংয়ের সময় পাইলট বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • ককপিট ভয়েস রেকর্ডার: দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে ককপিটে পাইলটদের আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা হয়েছে, যা যান্ত্রিক গোলযোগ বা আকস্মিক বিপদের ইঙ্গিত দেয়।

কড়া ব্যবস্থার সুপারিশ

AAIB-এর পক্ষ থেকে ডিজিসিএ (DGCA)-কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। ছোট এবং অনিয়ন্ত্রিত এয়ারফিল্ডগুলোতে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও আইএলএস (ILS) লাইটিং উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিএফআর (VFR) নিয়ম কঠোরভাবে পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ অজিত পাওয়ারের এই অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। বর্তমানে ব্ল্যাক বক্স ও অন্যান্য যান্ত্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ খোঁজার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *