মমতা সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ভোটার তালিকা নিয়ে কেন মেজাজ হারালেন প্রধান বিচারপতি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়া এবং রাজ্যের দেওয়া নানা অজুহাতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার শুনানির সময় রাজ্য সরকারকে কার্যত ভর্ৎসনা করে Supreme \titleonly কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অস্পষ্ট কারণ দেখিয়ে প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, “দয়া করে অস্পষ্ট কারণ নিয়ে আদালতে আসবেন না। প্রতিদিন কোনো না কোনো অজুহাত দিয়ে কাজ আটকে রাখা যাবে না। এই অভ্যাসের ইতি টানা দরকার।” বিচারপতিরা মনে করিয়ে দেন যে, ভোটার তালিকা তৈরির মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আদালত ৩৪৮ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল।
কপিল সিব্বলের যুক্তি ও আদালতের পাল্টা তোপ
রাজ্য সরকারের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যা আদালতের নির্দেশের পরিপন্থী হতে পারে। এই যুক্তি খারিজ করে বিচারপতি বাগচী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা প্রশিক্ষণ না দিলে আর কে দেবে? আমাদের নির্দেশ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।” আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, কোন নথি গ্রহণ করা হবে বা কার নাম ভোটার তালিকায় উঠবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুমাত্র বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরাই।
আগামী পদক্ষেপ
Supreme \titleonly কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে:
- রাজ্যের মুখ্য সচিবকে নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সুপারিশ করা নামগুলোর জন্য একটি ‘অনুষঙ্গী তালিকা’ (Supplementary List) প্রকাশ করতে হবে।
আদালতের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিশেষ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সম্পন্ন করতে হবে এবং রাজ্যকে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

