মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ, মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যু সংবাদে তোলপাড় বিশ্ব – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তেহরান ও তেল আভিভ
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার কি তবে চূড়ান্ত সংঘাতের মহড়া শুরু হয়ে গেল? এমনই এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র দাবি করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের এক ভয়াবহ যৌথ সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদে। শুধু নাসিরজাদে নন, ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC)-এর কমান্ডার মহম্মদ পাকপোরও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুটি বিশ্বস্ত সূত্র এবং পশ্চিম এশিয়ার একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা বা সরকারি বিবৃতি দিয়ে এই মৃত্যুর খবর স্বীকার করা হয়নি, তবে ঘটনার পর থেকেই ইরানের অন্দরে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খামেনেই ও পেজেসকিয়ান কি ছিলেন মূল নিশানায়
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হামলার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সমূলে বিনাশ করার লক্ষ্য নিয়ে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানকেও এই আক্রমণের নিশানায় রাখা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আমির নাসিরজাদের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়, তবে তা হবে বর্তমান শতাব্দীতে ইরানের জন্য সবথেকে বড় সামরিক বিপর্যয়। এর ফলে আরব দুনিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে এবং এক রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধের সূত্রপাত হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
চরম মূল্যের হুঁশিয়ারি তেহরানের
হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার প্রথম সরকারি বিবৃতি জারি করেছে ইরান। সেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে সরাসরি কিছু না জানানো হলেও, মার্কিন ও ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সমান। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, এই ধৃষ্টতার জন্য দায়ী পক্ষগুলোকে “চরম মূল্য” দিতে হবে এবং ইরান আত্মরক্ষার স্বার্থে যেকোনো মুহূর্তে পালটা আঘাত হানতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিশ্বশান্তি কি তবে খাদের কিনারে
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন কেবল দুই বা তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই পদক্ষেপ সমগ্র ইসলামি দুনিয়াকে এককাট্টা করে দিতে পারে। কূটনৈতিক স্তরে এই হামলাকে বিশ্বশান্তির পরিপন্থী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। একদিকে ইজরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা, আর অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে।

