লেটেস্ট নিউজ

১ মার্চ থেকে পণ্যবাহী গাড়িতে বড় বদল, ট্রাফিক আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পরিবহণ দফতরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের রাজপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী গাড়ির মালিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। ১ মার্চ থেকে জাতীয় পারমিটধারী সমস্ত ট্রাক এবং লরির ক্ষেত্রে পুনরায় বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ভিএলটিডি (ভেহিক্যালস লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস)। পরিবহণ দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এত দিন পর্যন্ত এই ডিভাইস বসানোর ক্ষেত্রে যে শিথিলতা বা ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।

কেন এই কড়াকড়ি এবং কী এই নতুন নিয়ম?

কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনে প্রতিটি পণ্যবাহী গাড়ির গতিবিধি ট্র্যাক করা এবং নিরাপত্তার খাতিরে এআইএস-১৪০ (AIS-140) মান্যতাপ্রাপ্ত ভিএলটিডি যন্ত্র লাগানো বাধ্যতামূলক। মাঝখানে প্রযুক্তিগত কিছু কারণে এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা ঢিলেমি থাকলেও, এখন ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড বা ‘ওয়েবেল’-এর তৈরি করা ব্যাক-এন্ড অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন থেকে অনলাইনে প্রতিটি গাড়ির ফিটমেন্ট পরীক্ষা এবং তথ্য যাচাই করা অনেক সহজ হবে।

পরিসংখ্যানে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

পরিবহণ দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে ৬৮,৫০৯টি জাতীয় পারমিটধারী পণ্যবাহী গাড়ি নথিভুক্ত রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে মাত্র ৩৯,০৪৮টি গাড়িতে এখনও পর্যন্ত ট্র্যাকিং ডিভাইস বসানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ২৯ হাজারেরও বেশি গাড়ি এখনও সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রাস্তায় চলছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করার কথা থাকলেও বড় একটি অংশ এখনও নিয়মবহির্ভূত রয়ে গেছে।

গাড়ির মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা

  • ১ মার্চ থেকে বাধ্যতামূলক পরীক্ষা: নতুন করে নথিভুক্ত হওয়া বা ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে আসা প্রতিটি জাতীয় পারমিটধারী পণ্যবাহী গাড়িকে ভিএলটিডি ফিটমেন্ট পরীক্ষা দিতেই হবে।
  • প্রস্তুতকারক নির্বাচন: আগে নির্দিষ্ট কিছু সংস্থার থেকেই এই যন্ত্র কিনতে হতো। তবে এখন নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টাল এবং ওয়েবেলের অ্যাপ্লিকেশনে নথিভুক্ত যেকোনো বৈধ সংস্থা থেকে মালিকরা এই ডিভাইস কিনতে পারবেন।
  • আইনি জটিলতা: যেসব গাড়িতে এখনও ডিভাইস লাগানো হয়নি, তাদের তালিকা ইতিমধ্যেই প্রতিটি আরটিও (RTO) এবং এআরটিও (ARTO) দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত নোটিস পাঠিয়ে এই গাড়িগুলিকে নিয়ম মানতে বাধ্য করা হবে। অন্যথায় পারমিট বাতিল বা ভারী জরিমানার মতো আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, ১ মার্চ থেকে রাজ্যের সীমানায় এবং চেকপোস্টগুলোতে এই নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। যারা এখনও নিয়ম মানেননি, তাদের জন্য সময় কার্যত শেষ হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *