বাসর রাতে রক্তস্নাত স্বপ্ন, ডেপুটি তহশিলদার সন্ধ্যার সিঁথির সিঁদুর মুছল নিজের দাদারা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায় এক শিউরে ওঠা অনার কিলিং বা ‘সম্মান রক্ষার্থে হত্যা’র ঘটনায় স্তব্ধ গোটা রাজ্য। ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়াই কাল হলো ৪১ বছর বয়সী সূর্যপ্রকাশের। যে রাতে নবদম্পতির রঙিন স্বপ্নে বিভোর থাকার কথা ছিল, সেই রাতেই পৈশাচিক আক্রোশে শেষ করে দেওয়া হলো এক তরতাজা প্রাণ। রায়ভরমের ডেপুটি তহশিলদার সন্ধ্যা এবং সূর্যপ্রকাশের দীর্ঘদিনের প্রেমের পরিণতি হিসেবে গত বৃহস্পতিবার অন্নভরম মন্দিরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু এই মিলন মেনে নিতে পারেনি সন্ধ্যার পরিবার।
বিয়ের ছবির পরেই শুরু হলো মৃত্যুপরোয়ানা
পেশায় ডেপুটি তহশিলদার সন্ধ্যা জানতেন তার পরিবার এই আসাম বিয়ে মেনে নেবে না। তাই মন্দিরে বিয়ের পরেই তিনি সাহসের সঙ্গে সেই ছবি নিজের দাদাদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলেন। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, সূর্যপ্রকাশের কোনো স্থায়ী বা উচ্চপদস্থ চাকরি না থাকায় সন্ধ্যার পরিবার শুরু থেকেই এই সম্পর্কের ঘোর বিরোধী ছিল। বিয়ের ছবি দেখার পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সন্ধ্যার ভাইয়েরা। তাদের পারিবারিক সম্মান ধুলোয় মিশে গেছে—এই অন্ধ আক্রোশ থেকেই তারা সূর্যপ্রকাশকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে।
বাসর ঘরের দোরগোড়ায় ওত পেতে ছিল যমদূত
ঘটনার রাতে যখন সূর্যপ্রকাশ অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনা নিয়ে প্রথম রাতের অনুষ্ঠানের জন্য দ্বারপুডি গ্রামে নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ঘড়িতে রাত সাড়ে এগারোটা। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে অন্ধকারের আড়ালে পাথর ও মারণাস্ত্র নিয়ে ওত পেতে রয়েছে তার নিজের সম্বন্ধীরাই। বাড়ির কাছে পৌঁছানো মাত্রই সন্ধ্যার দাদারা অতর্কিতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বড় বড় পাথর দিয়ে মাথা ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে তারা সূর্যপ্রকাশকে রক্তাক্ত করে ফেলে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। যে সিঁদুর কয়েক ঘণ্টা আগে সন্ধ্যা পরেছিলেন, নিজের ভাইদের হাতেই তা মুছে গেল নিমেষে।
পুলিশের তৎপরতা ও সামাজিক উদ্বেগ
খবর পেয়ে মণ্ডপেটা গ্রামীণ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এটি একটি পরিকল্পিত ‘অনার কিলিং’। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্ধ্যার দুই ভাই এবং তাদের এক সহযোগীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। শিক্ষিত এবং উচ্চপদস্থ চাকুরিজীবী হওয়ার পরেও সমাজের তথাকথিত ‘সম্মান’ বাঁচাতে নিজের বোনের সংসার তছনছ করে দেওয়ার এই ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। আধুনিক যুগেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের দোহাই দিয়ে যে রক্তক্ষয়ী খেলা চলছে, তা আবারও এই ট্র্যাজেডির মাধ্যমে সামনে এল।

