কি বড় বিপদে পড়ছেন মুকেশ আম্বানি? ইরান ইজরায়েল যুদ্ধ ও তেলের দামে কাঁপছে বাজার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ঝটকা দিতে চলেছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম ভারতের আমদানিকারক সংস্থা ও শেয়ার বাজারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
হরমূজ প্রণালী ও ভারতের ঝুঁকি
আইসিআরএ (ICRA)-র বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত বশিষ্ঠের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমূজ প্রণালী’ দিয়ে প্রায় ২০% পেট্রোলিয়াম ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। ভারতের জন্য এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর কারণ দেশের প্রায় ৫০% অপরিশোধিত তেল ও ৫৪% এলএনজি আমদানি এই পথেই হয়। এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫-১৫% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
আম্বানির রিলায়েন্স কি ক্ষতির মুখে?
বাজার বিশেষজ্ঞ অভিষেক ভট্টের মতে, মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ওপর এর মিশ্র প্রভাব পড়বে। তেলের দাম বাড়লে যদি রিফাইনিং মার্জিন (GRM) ভালো থাকে, তবে লাভ হবে। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমলে বা ইনপুট খরচ বাড়লে রিলায়েন্সের পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবসায় মুনাফা কমতে পারে। তবে জিও (Jio) এবং রিটেইল ব্যবসা এই ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করতে পারে।
ভারতের ওপর সামগ্রিক প্রভাব
- আমদানি খরচ বৃদ্ধি: তেলের দাম ৯০-১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে ভারতের আমদানি বিল বিপুল বাড়বে।
- মূল্যবৃদ্ধি: জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে।
- শেয়ার বাজারে ধস: বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII) শেয়ার বিক্রি শুরু করলে নিফটি ৩-৫% পর্যন্ত পড়তে পারে।
- তেল সংস্থাগুলির সংকট: আইওসিএল (IOCL), বিপিসিএল (BPCL) এবং এইচপিসিএল (HPCL)-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির লাভের মার্জিন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তেল ছাড়াও এভিয়েশন, পেইন্ট এবং কেমিক্যাল সেক্টর এই পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে এনএসই-তে রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম ১,৩৯৪ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।

