জ্বালানির বাজারে মহাপ্রলয়ের সংকেত! ইরান কি সত্যিই বন্ধ করে দিচ্ছে স্ট্রেট অফ হরমুজ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ নিয়ে দানা বাঁধছে চরম উত্তেজনা। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে খবর ছড়িয়েছে যে, ইরান এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও তেহরান এখনও সরকারিভাবে কিছু জানায়নি, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল মিশন ‘এস্পাইডস’-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো ইরানীয় রিভোলিউশনারি গার্ডসের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পাচ্ছে। ভিএইচএফ বার্তার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে জানানো হচ্ছে যে, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি নেই।
কেন কাঁপছে বিশ্ববাজার
পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সাথে যুক্ত করা এই স্ট্রেট অফ হরমুজ আদতে বিশ্ব অর্থনীতির হৃদস্পন্দন। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই রুট ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছায়। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী উপকূলরেখা থেকে ১২ সামুদ্রিক মাইল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ন্ত্রণ থাকে। সেই হিসেবে এই জলপথের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরান ও ওমানের হাতে। যদি এই পথ বন্ধ হয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়বে।
ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ভারতের জন্য এই খবরটি দুঃস্বপ্নের মতো। এর প্রধান কারণগুলো হলো—
- জ্বালানি সংকট: ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই তেলের প্রধান পথই হলো স্ট্রেট অফ হরমুজ।
- পকেটে টান: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লাফিয়ে বাড়বে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছাবে।
- অর্থনৈতিক চাপ: আমদানির খরচ বাড়লে ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি খাতের ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে।
- প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা: উপসাগরীয় দেশগুলোতে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় কাজ করেন। ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে তাঁদের নিরাপত্তা যেমন বিঘ্নিত হবে, তেমনি দেশি রেমিট্যান্স আসার পরিমাণও কমে যেতে পারে।
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই জলপথটির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটি মাত্র ৩৩ কিলোমিটার চওড়া। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল ট্রানজিট চোকপয়েন্ট’। এখানে সামান্য গোলমাল মানেই পুরো বিশ্বের জন্য মাথাব্যথার কারণ। ভারত বর্তমানে ইরান, সৌদি আরব এবং ইউএই-র সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

