বহরমপুরে বাইক রাখলেই কি গায়েব হচ্ছে ৫০০ টাকা? নো-পার্কিং বোর্ডের অভাবে টিফিননাবুদ শহরবাসী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বহরমপুর শহরের রাস্তায় বাইক রাখা এখন রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো নো-পার্কিং বোর্ড নেই, অথচ কাজ সেরে ফেরার আগেই মোবাইলে চলে আসছে ৫০০ টাকার জরিমানার চালান। পুলিশের এই ‘অদৃশ্য’ জালে পড়ে কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছেন মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভিন জেলা থেকে আসা পর্যটকরাও।
শহরের বাজার, হাসপাতাল বা সরকারি অফিসের সামনে বাইক রেখে কাজ সারতে গেলেই বিপত্তি ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশ বা সিভিক ভলান্টিয়াররা চুপিসারে বাইকের নম্বর প্লেটের ছবি তুলে নিচ্ছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘বাহন’ অ্যাপের মাধ্যমে মালিকের ফোনে পৌঁছে যাচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানার নোটিফিকেশন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ একে অনলাইন জালিয়াতি ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে পরবর্তীতে সরাসরি বাড়িতে আইনি সমন চলে আসছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসন জরিমানার ক্ষেত্রে যতটা তৎপর, সচেতনতা বৃদ্ধিতে ততটাই উদাসীন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা রাস্তার পাশে কোনো নির্দিষ্ট ‘নো-পার্কিং’ সংকেত না থাকায় সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না কোথায় বাইক রাখা আইনত অপরাধ। লালদিঘি পাড় এলাকায় দণ্ড দেওয়া এক যুবক প্রলয় মজুমদারের কথায়, “আইন ভাঙলে জরিমানা দেব ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনকে তো আগে জানাতে হবে যে এটা নো-পার্কিং জোন। বোর্ড না থাকলে আমরা বুঝব কী করে?”
এই চরম অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার নবনিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন্ত মজুমদার জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। কোন এলাকাগুলো নো-পার্কিং জোনের আওতায় পড়ছে, তা নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে যতক্ষণ না এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ বহরমপুরের রাস্তায় বাইক রাখা যেন এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

