কলেজের ভেতরে ‘লাফাঙ্গাগিরি’ করলেই সোজা জেল! ছাত্র ও অধ্যাপকদের চরম হুঁশিয়ারি মন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিজস্ব প্রতিনিধি, সবং: কলেজের ভেতরে বা বাইরে ‘লাফাঙ্গাগিরি’ করলেই এবার কপালে জুটবে শ্রীঘর। ছাত্রছাত্রীদের আচরণে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। বাদ গেলেন না শিক্ষকরাও, তাঁদের ‘ফাঁকিবাজ’ ও ‘অপদার্থ’ বলে তুলোধনা করলেন তিনি। মন্ত্রীর এই রণংদেহি মেজাজের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিক্ষা মহলে।
শনিবার সবংয়ের সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মন্ত্রী। কিন্তু অনুষ্ঠানের পরিবেশ দেখে মেজাজ হারান তিনি। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি সাফ জানান, “আমি যদি ক্লাসের বাইরে লাফাঙ্গাগিরি দেখি, তবে পুলিশ দিয়ে অ্যারেস্ট করিয়ে থানায় পাঠিয়ে দেব।” মন্ত্রীর অভিযোগ, বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়ারা পড়াশোনার চেয়ে ‘সাজুগুজু’ আর ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’ খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত। এমনকি ছাত্রদের গেটআপ নিয়েও সরব হন তিনি। প্রিন্সিপালকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “দৈত্যের মতো চুল আর কানে দুল পরা কোনো ছেলেকে যেন ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া না হয়।” ১ মার্চ থেকে টানা তিনদিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে সরাসরি টিসি (TC) দেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
শুধু পড়ুয়ারা নন, মন্ত্রীর রোষের মুখে পড়েন কলেজের অধ্যাপকরাও। তাঁদের মান ‘নিম্নগামী’ উল্লেখ করে মানস ভূঁইয়া বলেন, “সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন দিচ্ছে, অথচ আপনারা ক্লাস না করে শুধু টিউশনি করছেন। এত অপদার্থ কলেজের কাণ্ডারি আমি জীবনে দেখিনি।” কাজে গাফিলতি থাকলে অধ্যাপকদের বদলি নিয়ে চলে যাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা অমূল্য মাইতি মন্ত্রীর ভাষার তীব্র নিন্দা করে একে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, তিনি একজন অভিভাবক হিসেবেই ছাত্রছাত্রীদের শাসন করেছেন। কলেজের অধ্যাপকদের একাংশ মন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করলেও, প্রকাশ্য মঞ্চে এমন মন্তব্যে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

