কিস্তিতে সোনার লোভে সর্বস্বান্ত কাঁথি! ৯০ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট নামী ব্যবসায়ী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কাঁথির বাদলপুর গ্রামে এক অবিশ্বাস্য প্রতারণার জালে জড়িয়ে পড়েছেন শত শত সাধারণ মানুষ। সস্তায় সোনা আর আকর্ষণীয় কিস্তির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা এবং প্রচুর পরিমাণে পুরনো সোনার গয়না হাতিয়ে এলাকা ছেড়েছেন স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মানিক কামিল্যা। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে সপরিবারে বেপাত্তা এই ব্যবসায়ী, যার ফলে মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের।
প্রতারণার অভিনব কৌশল
অভিযোগ অনুযায়ী, মানিক কামিল্যা তাঁর দোকানের দীর্ঘদিনের পরিচিত ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। সেই সুযোগেই তিনি ‘কিস্তিতে সোনা’ কেনার এক লোভনীয় অফার চালু করেন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর টাকা জমা দিলে বিশেষ ছাড় এবং পুরনো সোনার বদলে হলমার্ক গয়না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিশ্বাস করে অনেকেই নিজেদের কষ্টের জমানো টাকা এবং বিয়ের গয়না তুলে দিয়েছিলেন তাঁর হাতে। কিন্তু গয়না দেওয়ার সময় আসতেই গত ১১ সেপ্টেম্বর দোকানে তালা ঝুলিয়ে গা-ঢাকা দেন মানিক।
বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা
প্রতারিত গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রথমে থানায় এফআইআর করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। নিরুপায় হয়ে তাঁরা কাঁথি এসিজেএম আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে শনিবার কাঁথি থানায় মানিক কামিল্যা ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের আর্তনাদ
প্রতারণার শিকার হওয়া শঙ্করী বেরা জানান, তিনি নিজের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর টাকা এবং বোনের বিয়ের জন্য ১৩ গ্রাম সোনা ও নগদ ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। একইভাবে ফুলেশ্বরী রাউল মণ্ডল দেড় লক্ষ টাকা এবং তাঁর স্বামী ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে এখন সর্বস্বান্ত। বাদলপুর ও আশেপাশের গ্রামের অন্তত ডজনখানেক মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন বলে দাবি করছেন।
বর্তমানে অভিযুক্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন বন্ধ এবং তিনি সপরিবারে পলাতক। পুলিশ আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করলেও টাকা বা গয়না ফেরত পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন প্রতারিতরা।

