বিএলওদের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়, প্রাণনাশের হুমকি আতঙ্কে কাঁপছে বাংলা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
শনিবার নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা। বিশেষ করে নাম বাদ যাওয়া বা ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের রোষের মুখে পড়ে কার্যত ঘরবন্দি দশা বিএলওদের। ফোন বাজছে বিরামহীন, আর বাড়ির সামনে জমছে শয়ে শয়ে মানুষের ভিড়। গালিগালাজ থেকে শুরু করে মানসিক নির্যাতন— বাদ যাচ্ছে না কিছুই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন স্কুলশিক্ষক থেকে শুরু করে সরকারি কর্মীরা।
নিজের নামই তালিকা থেকে গায়েব বিএলওর
সবচেয়ে আশ্চর্যের ঘটনা ঘটেছে বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার চাঁদপাড়ায়। সেখানকার ১৭২ নম্বর পার্টের বাসিন্দা দীপাঞ্জন বিশ্বাস নিজে একজন বিএলও হওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি। পরিবারের সবার নাম থাকলেও তাঁর নাম কেন ‘ডিলিটেড’ হলো, সেই উত্তর নেই খোদ তাঁর কাছেই। দীপাঞ্জনবাবুর আক্ষেপ, “আমি নিজেই যদি তালিকার বাইরে থাকি, তবে সাধারণ ভোটারদের কী দিয়ে শান্ত করব?”
আতঙ্কে অসুস্থ পরিবারের সদস্যরা
নোয়াপাড়ার এক মহিলা বিএলও তাঁর অসহায়তার কথা জানিয়ে ইআরও-কে বার্তা পাঠিয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষার ডিউটিতে থাকাকালীন তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। বাড়িতে থাকা তাঁর ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাকে লক্ষ্য করে উড়ে আসে কটূক্তি। চরম মানসিক অবসাদে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ওই বৃদ্ধা। কামারহাটির এক বিএলও জানিয়েছেন, ভোটাররা সরাসরি তাঁকেই দায়ী করছেন। দিল্লির নির্বাচন কমিশনের নিয়ম না বুঝে সাধারণ মানুষ বিএলওদের ওপরই সমস্ত ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর
কাজের চাপ এবং সাধারণ মানুষের ক্রমাগত হুমকির মুখে অনেক বিএলও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। কামারহাটির এক বিএলওর দাবি, এই অসহ্য মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তাঁর এক সহকর্মী ইতিমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ভোটারদের সাফ কথা, “কাগজ তোমায় দিয়েছি, নাম তোলার দায়িত্ব তোমার।” এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে বড়সড় হামলার আশঙ্কা করছেন বিএলও হিসেবে দায়িত্বরত কর্মীরা।

