লেটেস্ট নিউজ

শুরু কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ? ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা আর ইরানের সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিল আমেরিকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইজরায়েল-আমেরিকা বনাম ইরান সংঘাত আজ তৃতীয় দিনে পা রাখল, আর এর সাথেই বিশ্বজুড়ে জোরালো হচ্ছে এক ভয়াবহ আশঙ্কা— তবে কি দোরগোড়ায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ? সোমবার ভোর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে একের পর এক বিধ্বংসী খবর আসতে শুরু করেছে। একদিকে মার্কিন হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) সদর দপ্তর কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছে ঘাতক ড্রোন।

‘সাপের মাথা থেঁতলে দিয়েছি’, হুঙ্কার মার্কিন সেনার

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের সামরিক শক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ তাদের সদর দপ্তরটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। এই অভিযানের পর মার্কিন বাহিনীর দর্পভরা প্রতিক্রিয়া, “আমরা সরাসরি সাপের মাথাটাই থেঁতলে দিয়েছি।” তবে এই উল্লাসের মাঝেই বিষাদের সুর ওয়াশিংটনে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। কুয়েতের ঘাঁটিতে কর্মরত এই সেনাদের ‘প্রকৃত শহিদ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “এই আত্মবলিদান বৃথা যাবে না, আমরা এর চরম বদলা নেব।”

জ্বলছে সাইপ্রাস ও বেইরুট

যুদ্ধের আঁচ এবার লেগেছে ব্রিটেনের গায়েও। সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে এই হামলার পর ব্রিটেন পাল্টা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। অন্যদিকে, লেবাননের রাজধানী বেইরুটও রেহাই পায়নি। সেখানে হেজবোল্লা গোষ্ঠী লক্ষ্য করে ইজরায়েলি বাহিনী একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছে, যার ফলে গোটা শহর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পথে।

পোপের আর্তি বনাম যুদ্ধের বাস্তবতা

অপ্রত্যাশিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই নরককুণ্ডল থামাতে আসরে নেমেছেন পোপ লিও। ইতিহাস গড়ে প্রথমবার আমেরিকা থেকে নির্বাচিত এই পোপ তাঁর সাপ্তাহিক প্রার্থনায় বিশ্বনেতাদের কাছে হাতজোড় করে আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “অস্ত্র কখনও শান্তি আনতে পারে না। এই হিংসা বন্ধ না হলে মানবজাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।” কিন্তু পোপের নিজের দেশ আমেরিকা যখন যুদ্ধের প্রধান পক্ষ, তখন এই আর্তি কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *