লেটেস্ট নিউজ

বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে সংখ্যালঘুদের? ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নেপথ্যে কি গেরুয়া ছক কাজ করছে? এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার প্রথম পর্ব শেষ হতেই এই প্রশ্ন এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে। তৃণমূল Supreme \titleonlyো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কাই কি তবে সত্যি হতে চলেছে? তথ্য ও পরিসংখ্যান কিন্তু এক ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, যে সব কেন্দ্রে গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয় পেয়েছিল, সেই সব এলাকাতেই ভোটারদের ‘বিচারাধীন’ বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে জানিয়েছেন, বিজেপি নেতারা আগেই দাবি করেছিলেন ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম বাদ যাবে। বর্তমান পরিসংখ্যানে সেই লক্ষ্যমাত্রাই যেন প্রতিফলিত হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং দুই ২৪ পরগনার মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলিতে কোপ পড়েছে সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলাতেই ১১ লক্ষের বেশি ভোটার এখন ‘বিচারাধীন’। সামশেরগঞ্জ, সূতি বা রঘুনাথগঞ্জের মতো কেন্দ্রে এই সংখ্যাটা লক্ষাধিক।

তালিকা থেকে বাদ পড়েনি জনপ্রতিনিধিদের নামও। গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানি থেকে শুরু করে কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডলের ভাগ্য এখন বিচারকদের কলমে আটকে। মালদহের সুজাপুরেও ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটারের নাম ঝুলে রয়েছে। বাদ যায়নি পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল উত্তর বা কলকাতার মেটিয়াবুরুজের মতো এলাকাও।

অভিযোগ উঠছে, যথাযথ নথি থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু, তফসিলি এবং মহিলাদের বেছে বেছে টার্গেট করা হয়েছে। মেমারির মহম্মদ জাহাঙ্গিরের মতো সাধারণ মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে সামান্য কারণে। চোপড়ার মতো এলাকায় ২৮ হাজার মহিলার নাম এখন অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখার এই প্রক্রিয়া কি কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ? আমজনতার মনে এখন এই প্রশ্নই দানা বাঁধছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *