লেটেস্ট নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তি ফেরাতে মোদীর বড় পদক্ষেপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘের মাঝেই কূটনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় হয়ে উঠলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তটস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সংহতি জানাতে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপ সারলেন তিনি। এই কঠিন সময়ে ভারত যে আমিরাতের পাশেই আছে, সেই বার্তাই কড়া ভাষায় পৌঁছে দিয়েছেন মোদী।

অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষত ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মোদী স্পষ্ট করেছেন যে ভারত সর্বদা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি জানিয়েছেন, এই আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভারত আমিরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্তেজনার মূলে কী এবং কেন এই সংঘাত

সংঘাতের মূলে রয়েছে ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু। এই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও তার মিত্র শক্তিগুলো আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাল্টা হামলা শুরু করে। আবুধাবি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক শহর দুবাই পর্যন্ত এই আগুনের আঁচ পৌঁছেছে। এমনকি বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফা খালি করে দিতে হয়েছে এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্তব্ধ হয়ে যায়।

ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও উদ্বেগের কারণ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন। এই হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা করেছেন এবং কঠিন সময়ে প্রবাসীদের পাশে থাকার জন্য আমিরাত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আহত ভারতীয়র পরিবারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও আগামী দিন

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে আখ্যা দিয়ে দেশ রক্ষার শপথ নিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের এই সক্রিয় অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। মোদী যেভাবে আমিরাত ও ইসরায়েল দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রাখছেন, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট নিরসনে ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরও জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই কূটনৈতিক চাপ ইরানকে কতটা সংযত করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *