মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন, ভারতে কি মহার্ঘ হচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম একধাক্কায় ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত শুক্রবারও এই দাম ছিল ৭২.৯ ডলার। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত বড়সড় আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে।
ভারতের ওপর প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে ভারতের বার্ষিক আমদানি খরচ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১,১৮৮ কোটি টাকা) বেড়ে যেতে পারে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে, যার অর্ধেক আসে এই বিতর্কিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ বিঘ্নিত হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি না কি উদ্বেগ?
আপাতত পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্র। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে আমদানি শুল্ক বা অন্যান্য লেভি কমানোর পরিকল্পনা চলছে। তবে এর ফলে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বিশাল আর্থিক ক্ষতির বোঝা বইতে হতে পারে।
বিকল্প ব্যবস্থার পথে কেন্দ্র
বর্তমানে ভারতের হাতে প্রায় ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়া থেকে আমদানি কমানোর পাশাপাশি এখন ভেনিজুয়েলা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং আমেরিকা থেকে বিকল্প আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে সরকার। বিশ্ব রাজনীতির এই টানাপোড়েন কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

