লেটেস্ট নিউজ

মতুয়াদের ৯৯ শতাংশের নাম গায়েব ভোটার তালিকা থেকে! ফুঁসছে বনগাঁ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বনগাঁ

শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে যে, সংশোধিত তালিকা থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবারই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর। সোমবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে এবার সরাসরি রাস্তায় নামতে চলেছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ।

এদিন মমতা বালা ঠাকুর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এপিক কার্ডে কোথাও লেখা থাকে না কেউ কোন দলের সমর্থক। অথচ পরিকল্পিতভাবে মতুয়া ভোটারদের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে।” তাঁর সরাসরি অভিযোগ, মতুয়াদের বিপদে ফেলে এখন পিঠ বাঁচাতে দায় ঠেলার চেষ্টা করছে বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, “এতদিন বলা হচ্ছিল মতুয়াদের কোনও অসুবিধা হবে না, অথচ এখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কান্নার সুর ভেসে আসছে। হাজার হাজার মানুষের ভোট কেটে দেওয়া হয়েছে।”

এই ইস্যুতে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের ভূমিকা নিয়েও কড়া প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বালা। তাঁর দাবি, আগে মতুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও এখন শান্তনু ঠাকুর নিজের অবস্থান বদলাচ্ছেন। অন্যদিকে, বাগদার বিধায়ক তথা মতুয়া পরিবারের সদস্যা মধুপর্ণা ঠাকুর জানান, শুধুমাত্র বাগদা বিধানসভাতেই ১৪ হাজারের বেশি ভোট বাদ গিয়েছে এবং তার সিংহভাগই মতুয়া সমাজের। মধুপর্ণার সাফ কথা, “যদি তাঁদের ভোট অবৈধ হয়, তবে এই দেশের শাসকরাও কি বৈধ? প্রশ্ন উঠবে সব স্তরেই।”

নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এই গণহারে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে দিশেহারা। যদিও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযোগকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই ফের ভোটাধিকার মিলবে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে দাবানল সৃষ্টি করেছে। মতুয়া সমাজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর গোটা রাজ্যের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *