যুদ্ধের ময়দানে খেলনা বেরোল চিনা সিস্টেম! ইরানকে ডোবাল বেজিংয়ের ওপর ভরসা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরান। তেহরান থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে মুহুর্মুহু আছড়ে পড়েছে ঘাতক মিসাইল। আর ঠিক এই সংকটকালেই মুখ থুবড়ে পড়ল ইরানের গর্বের ‘চিনা কবচ’। আকাশপথে শত্রু দমনে বেজিংয়ের কাছ থেকে কেনা HQ-9B এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আদতে কোনো কাজেই এল না। ফলে ইজরায়েলি ফাইটার জেট এবং মিসাইল অনায়াসেই ইরানের আকাশসীমা ভেদ করে তছনছ করে দিল একের পর এক পরমাণু কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটি।
কেন ব্যর্থ হলো চিনা প্রযুক্তি?
নিজেদের আকাশসীমাকে দুর্ভেদ্য করতে রাশিয়ার S-300 বা আমেরিকার প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের আদলে তৈরি চিনা HQ-9B সিস্টেমের ওপর ভরসা করেছিল ইরান। দাবি করা হয়েছিল, এটি ২৬০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে থাকা যেকোনো মিসাইল বা বিমানকে ধ্বংস করতে সক্ষম। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে দেখা গেল উল্টো ছবি। ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু প্রকল্প থেকে শুরু করে আইআরজিসি সদর দফতর— সবখানেই মোতায়েন ছিল এই চিনা সিস্টেম। তা সত্ত্বেও ইজরায়েলি হামলা রুখতে এটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
ইতিহাস বলছে চিনা মাল মানেই ঝুঁকি
চিনা অস্ত্রের এই ব্যর্থতা কিন্তু নতুন নয়। এর আগে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময়ও এই একই HQ-9B সিস্টেম পাকিস্তানের আকাশ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ভারতীয় বাহিনী সেই সময় অনায়াসেই এই চিনা কবচ ভেদ করে হামলা চালিয়েছিল। এবার ইরানের ক্ষেত্রেও প্রমাণিত হলো যে, চিনা সমরাস্ত্রের বিজ্ঞাপনী চমক থাকলেও বাস্তব যুদ্ধে তা কার্যত ‘খেলনা’র সমান।
ইরানের চরম মাসুল
২০২৫ সালের জুন মাসে ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় রাশিয়ার পুরনো সিস্টেমে ধাক্কা খেয়েছিল ইরান। সেই খামতি ঢাকতেই ঘটা করে চিন থেকে এই নতুন ডিফেন্স সিস্টেম আনা হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের বাজারে চিনা মালের ওপর ভরসা করে ইরান এখন বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে। কোটি কোটি টাকার এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ইরানের কাছে কেবল একটি অকেজো লোহার স্তূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

