লেটেস্ট নিউজ

১০০ ডলার ছাড়াবে তেলের ব্যারেল? ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আগুনে উত্তপ্ত বিশ্ববাজার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক : ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ শতাংশ বেড়ে ৮২ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের মেঘ বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সাম্প্রতিক হামলায় এই জলপথটি এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তেহরান এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সতর্কতা জারির পর থেকে আন্তর্জাতিক নৌ-যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওই এলাকায় অন্তত দুটি তেলবাহী জাহাজে সরাসরি হামলা হয়েছে এবং একটির কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে।

দাম কি আরও বাড়বে? বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মার্কি’র জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শৌল কাভোনিক জানান, এখন পর্যন্ত তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু না হলেও পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাজার অস্থির। অন্যদিকে, কামার এনার্জির প্রধান নির্বাহী রবিন মিলস মনে করেন, ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন, যার ফলে যেকোনো নেতিবাচক খবরে দাম তাৎক্ষণিকভাবে লাফিয়ে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাত না থামলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদি তেমনটি ঘটে, তবে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হারও বেড়ে যেতে পারে।

ওপেক প্লাসের তৎপরতা বাজার স্থিতিশীল রাখতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। সারাসিন অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুবিথা সুব্রামানিয়াম সতর্ক করে বলেছেন, তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য ও শিল্পপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর ওপারে প্রায় ১৫০টি তেলের ট্যাংকার নোঙর ফেলে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বীমা খরচ বেড়ে যাওয়া এবং নিরাপত্তার অভাবে জাহাজগুলো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই রুটটি সুরক্ষিত করতে না পারলে তেলের বাজার এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *