ভোটার লিস্টে খোদ বিজেপি নেতার নামেই পড়ল ‘ডিলিটেড’ স্ট্যাম্প! বাঁকুড়ায় হুলুস্থুল কাণ্ড – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকা বা এসআইআর (SIR) নিয়ে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক বিতর্ক। এবার খোদ বিজেপি নেতার নামই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়ালো বাঁকুড়ায়। বাঁকুড়া মন্ডল ৪-এর বিজেপি সহ-সভাপতি রাকেশ চট্টরাজের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ বা ‘বাদ দেওয়া হয়েছে’ লেখা স্ট্যাম্প দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁর অনুগামীরা। এই ঘটনাকে প্রশাসনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সোমবার বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও (BDO) অফিসের সামনে বিশাল জমায়েত করে বিক্ষোভে বসেন বিজেপি নেতা ও কর্মীরা।
পৈতৃক ভিটেয় বাস তবুও কেন বাদ পড়ল নাম
বাঁকুড়ার জগদাল্লা গ্রামের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা রাকেশ চট্টরাজ। তাঁর দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনেও তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন এবং তাঁর পরিবারের বহু প্রজন্ম এই গ্রামেই বসবাস করছে। সমস্ত নথিপত্র এবং ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও কীভাবে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সাধারণত মৃত্যু বা বাসস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই নাম বাদ দেওয়া হয়, কিন্তু রাকেশের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই ঘটেনি। সরাসরি শাসকদলের ইশারায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা এই কারসাজি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ এই বিজেপি নেতা।
দায় ঝেড়ে তৃণমূলের পাল্টা তোপ নির্বাচন কমিশনকে
বিজেপির এই বিক্ষোভ ও অভিযোগের মুখে পড়ে অবশ্য দায় এড়াতে চেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি অংশুমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কোনো হাত নেই। উল্টে তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, কমিশনের গাফিলতি এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বহু সাধারণ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, যার দায় কোনোভাবেই রাজ্য সরকারের নয়।
বিডিও অফিস চত্বরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি
বিজেপি নেতার এই অবস্থান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দীর্ঘক্ষণ বিডিও অফিস চত্বরে টানটান উত্তেজনা বজায় থাকে। গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা দফায় দফায় স্লোগান তুলে অবিলম্বে নাম পুনর্বহালের দাবি জানান। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলায় কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম ‘পেন্ডিং’ বা ‘ডিলিটেড’ পর্যায়ে থাকা নিয়ে এমনিতেই রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। তার ওপর একজন হেভিওয়েট বিজেপি নেতার নাম এভাবে বাদ পড়ায় আগামী দিনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

