লেটেস্ট নিউজ

‘ফাল্গুনে রথযাত্রা? ওটা আসলে চোরদের রথ!’ বিজেপিকে তুলোধোনা করে ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে না বাজতেই কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে ‘তফসিলির সংলাপ’ কর্মসূচি থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ সালে বাংলা থেকেই শুরু হবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পতনের কাউন্টডাউন। তাঁর দাবি, বঙ্গবাসী যদি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ৫০টির কম আসনে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে, তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, তার আগেই দিল্লির মসনদ টলে যাবে।

বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ

রাজ্যে বিজেপির প্রস্তাবিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বা রথযাত্রাকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ফাল্গুন মাসে রথযাত্রা আগে কখনও কেউ শুনেছে কি না। অভিষেক বলেন, “ফাল্গুনে রথযাত্রা? ওটা আসলে চোর আর জোচ্চোরদের রথ। ওরা রথে চড়ে ঘুরছে আর তৃণমূলের কর্মীরা মানুষের সেবায় রাজপথে পড়ে রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই রথেই বিজেপির বিদায় ঘণ্টা বাজবে এবং বাংলার মানুষ মমতাকে ২৫০টিরও বেশি আসন দিয়ে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করবেন।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের অধিকার নিয়ে সরব হয়ে অভিষেক কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, বাংলার প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ পর্যায়ে ফেলে রাখা হয়েছে। অভিষেকের প্রশ্ন, “যদি এই ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দেওয়ার যোগ্য না হন, তবে তাঁদের ভোটেই নির্বাচিত হওয়া প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গদি বৈধ হয় কীভাবে?” তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজেপির এই ‘দলিত বিরোধী’ চেহারা মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কর্মীদের জন্য কড়া টাস্ক

রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল তুলে ধরে অভিষেক জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের মাসে ১৭০০ টাকা করে দিচ্ছে। পাঁচ বছরে যা এক লক্ষ টাকারও বেশি। নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য কোমর বেঁধে নামার বার্তা দিয়ে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আগামী দুই মাস খাওয়া আর ঘুম ছাড়া বাকি পুরো সময়টা মানুষের সেবায় এবং প্রচারের কাজে উৎসর্গ করুন।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া বার্তায় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ২০২৬-এর লড়াইয়ে তৃণমূল যে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ এবং রণকৌশল হিসেবে তফসিলি ভোটব্যাঙ্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তা আজ নজরুল মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *