লেটেস্ট নিউজ

গঙ্গাসাগরে বিজেপি নেতাকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি দুষ্কৃতীদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কাকদ্বীপ: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রক্তাক্ত হল কপিলমুনির পুণ্যভূমি গঙ্গাসাগর। বুধবার সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে এক বিজেপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সদস্য ত্রিলোকেশ ঢালি গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ত্রিলোকেশবাবু। সেই সময় মোটরবাইকে আসা এক দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁর বুকের ডানদিকে গুলি লাগে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে দুষ্কৃতী চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে বলে খবর।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাগরদ্বীপে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে বিজেপি সমর্থকরা সাগর, নামখানার লালপোল এবং কাকদ্বীপ মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর-বারাসাত রোডের বটতলা মোড়েও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শান্ত গঙ্গাসাগরে এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নজিরবিহীন।

আক্রান্ত নেতার ছেলে ত্রিদিব ঢালি অভিযোগ করেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর বাবার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে। বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা অরুণাভ দাস বলেন, “মানুষকে ভয় দেখাতে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।”

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী তথা সাগরের বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। পুলিশকে যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের ধরতে দ্বীপজুড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মুড়িগঙ্গা নদীর ভেসেল ঘাটগুলিতে কড়া নাকা চেকিং বসানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা ভেসেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *