ভাতারে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় বিপত্তি কর্ণের রথের মতো বসে গেল চাকা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মহাভারতের কুরুক্ষেত্রে ভূমিদেবীর অভিশাপে থমকে গিয়েছিল মহাবীর কর্ণের রথের চাকা। মঙ্গলবার ঠিক সেই দৃশ্যেরই পুনরাবৃত্তি দেখল ভাতারের মানুষ। সৌজন্যে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। ভোট-কুরুক্ষেত্রের আবহে খোদ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতেই মাটিতে বসে গেল আধুনিক সাজে সজ্জিত রথের চাকা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লাগাতার বিজেপি নেতাদের ‘দুর্যোধন’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাতারে বিজেপির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রথের চাকা বসে যাওয়াকে প্রকৃতির বিচার বলে দাবি করছেন বিরোধীরা। জানা গিয়েছে, গাড়ির ওপর বিশালাকার কাঠামো তৈরি করার ফলেই অতিরিক্ত ভারে সেটি মাটিতে বসে যায়। প্রায় ৪০ মিনিট প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শমীক ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য প্রথম সারির নেতাদের। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দক্ষ কর্মী এনে রথটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শুরুর সেই উন্মাদনা আর ফিরে আসেনি।
তৃণমূল নেতা তথা জেলাপরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোয়ার এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপি বাংলার সাধারণ মানুষের ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে অভিশাপ কুড়িয়েছে। মহাভারতের কর্ণের মতো তাদেরও এখন পরাজয় নিশ্চিত, আর এই রথের চাকা বসে যাওয়া তারই অশুভ সংকেত।” অন্যদিকে, খোদ বিজেপি কর্মীদের একাংশও আড়ালে আবডালে বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না। সংস্কারাচ্ছন্ন অনেক নেতাই এই ঘটনাকে ‘অমঙ্গল’ হিসেবে দেখছেন।
পাল্টা জবাবে শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য শাসক দলকে আক্রমণ করে রাজ্যে ‘সাতজন ধৃতরাষ্ট্রের’ উপস্থিতির কথা বলেন। তবে কর্ণের রথের চাকা বসে যাওয়ার প্রসঙ্গের কোনো সদুত্তর তাঁর কথায় মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রথযাত্রার শুরুতে যে জৌলুস ছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির এই ঘটনায় তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে। ভাতারের এই ঘটনা এখন বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে।

