রান্নার গ্যাস সংকটে হাড়ির হাল বেহাল বিপাকে পড়া বাঙালির সহায় এখন পাড়ার রুটির দোকান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
চুঁচুড়া: গত কয়েকদিন ধরে চলা রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে নাভিশ্বাস উঠেছে হুগলি জেলার সাধারণ মানুষের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চুঁচুড়া, চন্দননগর, শ্রীরামপুর থেকে ডানকুনি— সর্বত্রই গৃহস্থের হেঁশেলে রাতের রান্নার পাট কার্যত বন্ধ হওয়ার জোগাড়। এই চরম বিপাকে এখন মধ্যবিত্তের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে পাড়ার মোড়ের রুটির দোকানগুলো।
গ্যাস বাঁচাতে এবং অনিশ্চয়তা এড়াতে জেলার নাগরিকদের একাংশ এখন রাতের খাবারের জন্য ভিড় জমাচ্ছেন রুটির দোকানে। এর ফলে একধারে যেমন সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বদল আসছে, তেমনই লাভের মুখ দেখছেন ছোট রুটি বিক্রেতারা। জেলার অধিকাংশ দোকানে এখনও কয়লা বা গুলের উনুন ব্যবহার হওয়ায় গ্যাসের সংকট সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে চেনা গ্রাহকদের পাশাপাশি অচেনা খদ্দেরদের ভিড়ও সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানদাররা।
চন্দননগরের হরিদ্রাডাঙার এক রুটি বিক্রেতা মিতালি দাস জানান, মাত্র তিনদিন আগেও যেখানে গড়ে ৬০টি রুটি বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গিয়েছে। শ্রীরামপুরের ব্যবসায়ী প্রমোদ সাউয়ের কথায়, মানুষ এখন বাড়িতে রান্না না করে রুটি-তরকারি কিনে রাত পার করতে চাইছেন। ডানকুনির এক গৃহকর্তার মতে, বাড়িতে যারা কোনওদিন রুটি ছুঁয়ে দেখতেন না, পরিস্থিতির চাপে তারাও এখন সানন্দে রুটি-তড়কা বা চানা মশলা খাচ্ছেন।
তবে এই সংকট কেবল গৃহস্থের হেঁশেলে সীমাবদ্ধ নেই। হাসপাতালের রোগীদের পথ্য সরবরাহ থেকে শুরু করে স্কুলগুলোর মিড-ডে মিল নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরাও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন যে কতদিন তারা এই গ্যাস সংকটের মধ্যে ব্যবসা সচল রাখতে পারবেন। বাঙালির চিরকালীন গ্যাসের সমস্যার সাথে এবার যুক্ত হয়েছে রান্নার গ্যাসের এই নতুন মাথাব্যথা।

