আতঙ্কিত হয়ে এলপিজি বুকিং নয় দেশে রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেও ভারতবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশে এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেল বা কেরোসিনের কোনো ঘাটতি নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। রান্নার গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূর করতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, অযথা আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস বুকিং করার প্রয়োজন নেই। যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে ভারতের ৭০ শতাংশেরও বেশি আমদানি সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল শোধক দেশ হওয়ায় অভ্যন্তরীণ শোধন ক্ষমতা আমাদের বড় ভরসা। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৮ শতাংশ এলপিজি উৎপাদিত হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
বিপনন ব্যবস্থা সচল রাখতে দেশজুড়ে ১ লক্ষ পেট্রোল পাম্প এবং ২৫ হাজার ডিস্ট্রিবিউটর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে রাজ্য সরকারগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কয়লা ও কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এমনকি হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পকে সাময়িকভাবে বায়োমাস বা কেরোসিন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে জেলা স্তরে কমিটির মাধ্যমে জোগান ব্যবস্থা তদারকি করছে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কোনো প্রভাব না পড়ে।

