রানিগঞ্জে তৃণমূলের টিকিট প্রত্যাশীদের দৌড়: জনসেবা ছেড়ে ব্যক্তি প্রচারে মগ্ন একদল নেতা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রানিগঞ্জ ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে টিকিট পাওয়ার লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ উপেক্ষা করে একদল স্বঘোষিত নেতা ও জনপ্রতিনিধি নিজেদের অনুগামীদের দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুণকীর্তন করাতে ব্যস্ত। এদের মধ্যে কেউ পেশায় শিক্ষক, কেউ বা কাউন্সিলর, যারা এখন বিধায়ক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এমনকি লোকসভা নির্বাচনে নিজেদের বুথে পিছিয়ে থাকা নেতারাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নিজেদের ‘বাঘ’ বা ‘সিংহ’ হিসেবে তুলে ধরছেন, যা নিয়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বিজেপির নীতি বা স্থানীয় জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে সরব হওয়ার বদলে এই নেতারা দামী গাড়ি এবং ‘মিডিয়া ম্যানেজার’ নিয়ে ব্যক্তিগত প্রচারে বেশি আগ্রহী। বার্নপুরের তৃণমূল নেতা অমিত সেন প্রকাশ্যে এই সংস্কৃতির সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে, নেতারা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্দোলন ছেড়ে কেবল টিকিটের দিকে তাকিয়ে আছেন। ইসিএল কোয়ার্টারের বেহাল দশা বা কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমিক বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনের অভাব স্পষ্ট ধরা পড়ছে। জনবিচ্ছিন্ন এই প্রচারসর্বস্ব রাজনীতি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জানিয়েছেন যে, মূলত দল ক্ষমতায় আসার পর যারা যোগদান করেছেন, তারাই এই ধরনের কাণ্ডকারখানা চালাচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত প্রচার নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি আড়ালে রেখে নেতাদের এই সাজগোজ ও সামাজিক মাধ্যমের দাপট নিচুতলার কর্মীদের তিতিবিরক্ত করে তুলেছে।

