তৃণমূলের প্রার্থিতালিকায় রাজনীতিকদের প্রাধান্য, ‘নতুন তৃণমূল’-এর লক্ষ্যে মমতা-অভিষেক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দেড় দশকের ঐতিহ্য ভেঙে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তারকা চমকের বদলে খাঁটি রাজনীতিকদের ওপরই আস্থা রাখল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২৯১টি আসনের যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, তাতে টলিউডের নতুন কোনো মুখ নেই। বরং চিরঞ্জিত চক্রবর্তী ও কাঞ্চন মল্লিকের মতো তারকাদের টিকিট দেওয়া হয়নি। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, রাজনীতির ময়দানে অভিনেতা বা খেলোয়াড়দের চেয়ে স্থানীয় সমীকরণ ও সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন নেতারাই অগ্রাধিকার পাবেন।
তালিকায় উল্লেখযোগ্য রদবদল ঘটিয়ে পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে চণ্ডীপুর থেকে সরিয়ে করিমপুরে পাঠানো হয়েছে এবং ফুটবলার বিদেশ বসুকে দেওয়া হয়েছে সপ্তগ্রামের টিকিট। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং সব্যসাচী দত্তর মতো সক্রিয় রাজনীতিকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। অভিষেক মনে করেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারকাদের চেয়ে রাজনীতিকরাই সাধারণ মানুষের পরিষেবায় বেশি সময় দিতে সক্ষম, যা দলের দীর্ঘমেয়াদী ভাবমূর্তির জন্য জরুরি।
এই প্রার্থিতালিকা মূলত ‘নতুন তৃণমূল’-এর পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে গ্ল্যামারের চেয়ে পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ক বাদ পড়ায় এবং ১৫ জনের কেন্দ্র পরিবর্তন হওয়ায় স্পষ্ট যে, গত পাঁচ বছরের কাজের খতিয়ানই ছিল মনোনয়নের মূল মাপকাঠি। বীরভূমে কাজল শেখের অন্তর্ভুক্তি বা পাণ্ডুয়ায় সমীর চক্রবর্তীর মনোনয়ন প্রমাণ করে যে, দল এবার অভিজ্ঞ ও সংগঠনমুখী নেতাদের সামনে রেখে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে। মূলত নবীন-প্রবীণের ভারসাম্য রক্ষা করে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক রণকৌশল সাজিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

